ভবিষ্যত নয়, বর্তমান নিয়ে ভাবতে চান রুহেল

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই দারুণ সাফল্য পেলেন তরুণ পেসার রুহেল মিয়া। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ার তো বটেই, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেসারদের সেরা বোলিং ফিগারটাই করে নিয়েছেন শনিবার চট্টগ্রামের বিপক্ষে (৮/২৬)। ঘরোয়া ক্রিকেটের ‘উইকেটের ঘোড়া’ আব্দুর রাজ্জাক, সাইকলাইন আর তালহা জুবায়ের কাছকাছি চলে গেছেন চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে এক ইনিংসে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা তরুন। এই সাফল্য, সাফল্যের পেছনের গল্প, সামনে কোন চূড়ায় উঠতে চান? এসব নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের সাব-এডিটর সাগর রায়‘র সঙ্গে।

এসএনপিস্পোর্টস: আজ (শনিবার) অসাধারণ বোলিং করেছেন। প্রথমেই অভিনন্দন।

রুহেলঃ ধন্যবাদ।

এসএনপিস্পোর্টস: এমন সাফল্যের পর অনুভূতি কেমন?

রুহেলঃ এটা অন্যরকম এক অনূভুতি। বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আল্লাহ’র কাছে অনেক শুকরিয়া।

এসএনপিস্পোর্টস: আপনার এই সাফল্যের পেছনের গল্প?

রুহেলঃ সাফল্যের পেছনে অনেক মানুষের অবদান আছে। দলের সবাই সহযোগীতা করেছেন তবে বিশেষ করে দু’জন মানুষের অবদান রয়েছে এই সাফল্যের পেছনে।

এসএনপিস্পোর্টস: তাঁরা কারা?

রুহেলঃ তাপস দত্ত এবং মোহাম্মদ রাসেল স্যার। এই দু’জনের কোচের পরিচর্যায় আমি আজকের রুহেল হয়ে উঠেছি। আমাকে তুলে এনেছেন তাঁরাই।

এসএনপিস্পোর্টস: দলে অনেক সিনিয়র আছেন, যারা আগে জাতীয় দলে খেলেছেন। অনেকে এখনো খেলছেন। তাঁদের কাছে থেকে কেমন সহায়তা পেয়েছেন?

রুহেলঃ অবশ্যই। অনেকেই আছেন। তারা আমাকে সহযোগিতা করে গিয়েছেন। অধিনায়ক (অলক কাপালি) সব সময় বলে দিয়েছেন কোন জায়গায় বল করতে। সবার সহযোগিতা পেয়েছি।

এসএনপিস্পোর্টস: আজ (শনিবার) আট উইকেট পেয়েছেন। উইকেট থেকে কেমন সুবিধা পেয়েছেন?

রুহেলঃ উইকেট যেমনই হোক না কেন, আসলে ভালো জায়গায় বল করাটাই লক্ষ্য ছিল। সেটা করতে পেরেছি। যার জন্যই এই সাফল্য।

এসএনপিস্পোর্টস: ঘরোয়া ক্রিকেটের লঙ্গার ভার্সনে পেসারদের জন্য খুব একটা সহায়তা নেই। স্পিনাররাই বেশি আধিপত্য দেখান। উইকেট নিয়ে কোনো চাওয়া আছে?

রুহেলঃ এটা নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। তবে পেসারদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা বাড়ালে ভাল হয়। যেম ঘাসের উইকেট হলে ভালো হবে।

এসএনপিস্পোর্টস: বর্তমানে জাতীয় দলের টেস্ট বোলিং লাইনআপে সিলেটের আধিপত্য। সেটা কি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে?

রুহেলঃ সিলেটের পেসাররা খুব ভালো মানের। সবাই ভাল করছেন। যাদের সঙ্গে খেলি, সেই সিনিয়ররা ভালো করতে দেখলে আমার নিজেরও ভালো লাগে।

এসএনপিস্পোর্টস: বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উঠে আসছেন। লক্ষ্য কি জাতীয় দল?

রুহেলঃ অবশ্যই। স্বপ্ন দেখি একদিন জাতীয় দলে খেলবো। তবে বর্তমানে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে চাই না। আমি বর্তমান নিয়েই কাজ করতে চাই। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো খেলতে চাই। দূরবর্তী কোনো চিন্তা নেই আপাতত। প্রতিনিয়ত ভালো করতে হবে, উন্নতি করতে হবে।

এসএনপিস্পোর্টস: লিগ শেষে দলকে কোথায় দেখতে চান?

রুহেলঃ হ্যা। সামনে বড় সুযোগ আছে প্রথম স্তরে উঠার। অবশ্যই দলকে সেই জায়গায় দেখতে চাই।

এসএনপিস্পোর্টস: এমন একটা সময় এই পারফর্ম, যখন বিপিএলের ড্রাফটস খুব কাছাকাছি। ড্রাফটেও নাম আছে। কিরকম আশাবাদী?

রুহেলঃ সব আল্লাহ’র ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ভাগ্যে যদি আল্লাহ রাখেন।

এসএনপিস্পোর্টস: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা।

রুহেলঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০