মানুষের ‘ভালোবাসায়’ বাজিমাত সিলেটের মাহি উদ্দিন সেলিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম অসুস্থ ছিলেন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে। শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর ভর্তি হন হাসপাতালে। সিলেট নগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তার আগে ও পরে আরো বেশ কয়েকদিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এই পুরো সময়টায় চিকিৎসকদের পরামর্শে নিজের মুঠোফোন বন্ধ রাখেন। থাকেন বিশ্রামে। তার কিছু দিন পরেই ছিলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন। ৩ অক্টোবর নির্বাচন, তার আগে সদস্য প্রার্থী এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। তাঁর শুভাকাঙ্খীরা ছিলেন চরম দুশ্চিন্তায়। নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে পারবেন কি তিনি? এমন শঙ্কা ছিলো তাদের মনে।

অসুস্থ ছিলেন, নির্বাচনের টিক আগ মুহুর্তে মাত্র তিনদিন করেছেন নির্বাচনী প্রচারণা। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহি উদ্দিন সেলিম। দ্বিতীয়বারের মতো বাফুফের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে সততা, নিষ্টার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য। বাফুফে নির্বাচনে তাই জেলা, ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষবোর্ডগুলো নিজেদের ভোট দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার সর্বোচ্চ পরিষদে রাখলেন এই ক্রীড়া ক্রীড়া সংগঠককে।

সিলেট তথা দেশের ফুটবলাঙ্গণে অনেক অবদান সিলেটের এই ক্রীড়া সংগঠকের। ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন মন উজাড় করে। স্পন্সর যখন মিলে না, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহা থেকেই স্পন্সর করেন বাফুফে, ডিএফএ’র টুর্ণামেন্টগুলোতে। সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণ ও ফুটবলাঙ্গণেও জড়িয়ে আছে তাঁর এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ক্রীড়াঙ্গণকে দুই হাত ভরে দিচ্ছেন তিনি। দেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায় বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট, আয়োজনে এগিয়ে আসেন মাহি উদ্দিন সেলিম। গুণেধরা এই সমাজে ‘মানবতা’র ফেরিওয়ালা হয়েও কাজ করছেন তিনি। নিজ উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে আসছেন দীর্ঘ দিন থেকে। অসহায়, গরীব কেউ গেলে খালি হাতে ফিরে আসেন না। নিজের এসব কাজকে কখনোই সামনে আনতে চান না তিনি। নিরবে, নিভূতে কাজ করে যান সমাজের জন্য, ক্রীড়াঙ্গণের জন্য। করোনার দুর্যোগের সময়েও তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের, খেলোয়াড়, কোচ-কর্মকর্তাদের। এসবের ভালোবাসারই যেনো বর্হিঃপ্রকাশ ঘটলো বাফুফে নির্বাচনে।

নির্বাচনের আগে তিনি অসুস্থ ছিলেন, ডেলিগেটদের কাছে যেতে পারেননি, নিজের জন্য ভোটও চাইতে পারেননি। নির্বাচনের তিন দিন আগে ঢাকায় গিয়ে শেষ মুহুর্তে কিছুটা প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন। কিন্তুু বাফুফের ডেলিগেটরা গোপন ব্যালট পেপারে নিরব ভালোবাসা জানিয়েছেন মাহি উদ্দিন সেলিমের প্রতি। নির্বাচনে সদস্য পদে ৮৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। এই পদে সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ ৮৭ ভোট পেয়েছেন জাকির হোসেন।

অথচ এই নির্বাচনে সদস্য পদে কাজী সালাউদ্দিন প্যানেলের ৬জন প্রার্থী ফেল করেছেন। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে অনেকেই ফেলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয়জন, সিলেটের এই সংগঠক, নির্বাচনী প্রচারণায় তেমনটা না থাকলেও ব্যালটের লড়াইয়ের ‘বাজিমাত’ করেছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ডেলিগেট ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি।

জানতে চাইলে মাহি উদ্দিন সেলিম এসএনপিস্পোর্টসকে বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম বেশ কিছু দিন। কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারিনি। নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারিনি। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ঢাকায় যাই। সবাই যে ভাবে ভালোবাসার বর্হিঃপ্রকাশ করেছেন আমি মুগ্ধ হয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকবো ফুটবলের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। সবার এই ভালোবাসার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই।’

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০