মিঠুনের নেতৃত্বেই আস্থা, চট্টগ্রামের শিরোপা এনে দেবেন সৌম্য-লিটন, মুস্তাফিজরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় অন্যতম সফল কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এই তারকা কোচ সবসময়ই ভরসা রাখেন অভিজ্ঞতার উপর। ফরম্যাট অনুসারে বরাবরই অভিজ্ঞ দল গঠন করেন তিনি। আসন্ন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের নিজ দলের আরও একবার সেই পথে হেঁটেছেন তিনি।

টুর্নামেন্টে সালাউদ্দিনকে দেখা যাবে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের ডাগআউটে। যেখানে জাতীয় দলের এক ঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন। যেখানে সবাই নিজেদের প্রমাণ করে ফেলেছেন। এছাড়াও রয়েছেন বেশ কিছু তরুণ পারফর্মার। টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ ক্রিকেটাররাই চট্টলার দলটিতে। ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে তাই চোখ এবার শিরোপায়।

প্লেয়ার্স ড্রাফটে সুযোগ পেয়েই ১৫ লাখ টাকার ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভেড়ায় চট্টগ্রাম। কাটার মাস্টারকে দিয়েই মূল বাজিমাত করার দিকে লক্ষ্য তাদের। সদ্য সমাপ্ত বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপেও ভালো পারফর্ম করেছেন ফিজ। ফর্ম ধরে রেখে নিজের কাটারের বিষে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটিং লাইনআপ নীল করে দেওয়ার দিকেই নজর থাকবে মুস্তাফিজের।

দলের সবচেয়ে গুরু দায়িত্ব থাকবে মোহাম্মদ মিঠুনের উপর। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারই নেতৃত্ব দিবেন চট্টগ্রামকে। ব্যাট হাতে সময়টা ভালো না গেলেও, ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের উপরই ভরসা রাখছেন সালাউদ্দিন। স্বীকৃত ক্রিকেটে ৪২৭ ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার অভিজ্ঞতার কতটা ঢেলে দিতে পারবেন সেটিই, এখন দেখার বিষয়।

চট্টগ্রামের অন্যতম ভরসার নাম লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। জাতীয় দলের দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান লিটন-সৌম্য ইনিংস শুরু করবেন। দুজনের সামর্থ্য সম্পর্কে জানা সকলেরই। দ্রুত রান তুলতে কতটা পারদর্শী এই দুই তারকা। ডানহাতি ও বাঁহাতি কম্বিনেশনে পাওয়ার প্লে’র সদ্ব্যব্যাবহারটা তারা ভালোভাবেই করতে জানেন।

এছাড়া উইকেটে সেট হলে কতটা রুদ্রমূর্তি করতে পারেন দুজন সেটাও ভালো জানা সকলের। ২৬ বছর বয়সী লিটন এখন পযর্ন্ত ১০০ টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ২ হাজারের মতো রান করেছেন। অপরদিকে ১২৭ টি-টোয়েন্টি খেলা সৌম্যের রান সংখ্যা ২১৩১। বল হাতেও ২৬টি উইকেট রয়েছে তাঁর। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে অনেক সময় ব্রেক থ্রু এনে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতেন পারেন তিনি।

এদিকে স্পিন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক মিডল অর্ডারে চট্টগ্রামের ভরসা হতে পারেন। এছাড়া ফিনিশারের ভূমিকায়ও অবতীর্ন হতে পারেন। বল হাতেও ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারেন কিংবা চাপ সৃষ্টি করতে পারেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে। এছাড়াও মমিনুল হক, শামসুর রহমান শুভ’র মতো অভিজ্ঞরা ভরসা হয়ে উঠতে পারেন ব্যাট হাতে। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বল হাতে চমক দেখাতে পারেন জিয়াউর রহমান।

বোলিং লাইনআপে মুস্তাফিজকে সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি দলের ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এছাড়া দুই বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামের হাতে থাকবে স্পিন বিভাগের দায়িত্ব। সঞ্জিত সাহাও প্রস্তুত স্পিন ভেলকি দেখাতে। ডানহাতি মানসম্পন্ন বোলারের অভাব রয়েছে চট্টগ্রাম শিবিরে। তবে সেখানে চমক দেখাতে পারেন ‘অখ্যাত’ মেহেদী হাসান।

তবে চমৎকার দল গঠনের পরও চট্টগ্রামের বড় সমস্যা হতে পারে খেলোয়াড়াদের অধারাবাহিকতা। নিজেদের দিনে সৌম্য-লিটন-মুস্তাফিজরা কতটা ভয়ঙ্কর সেটা জানা সকলেরই। তবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ দলটির সামনে। সালাউদ্দিনের মাস্টারমাইন্ড সেই চ্যালেঞ্জ কতটা মোকাবেলা করতে পারে সেদিকেই থাকবে মূল আকর্ষণ।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম
মোহাম্মদ মিঠুন (অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, শরিফুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, তাইজুল ইসলাম, শামসুর রহমান শুভ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, সৈকত আলি, মুমিনুল হক, রাকিবুল হাসান, সঞ্জিত সাহা, মাহমুদুল হাসান জয় ও মেহেদী হাসান।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা