মুজারাবানির ৭ উইকেট, পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারাল জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্কঃ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ আগেই খুইয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ছিল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর। মঙ্গলবার সেই মান বাঁচানোর ম্যাচে পাকিস্তানকে সুপার ওভার রোমাঞ্চে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ২৭৮ রান করে আফ্রিকার দেশটি। জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ের সমান ২৭৮ করে পাকিস্তানও। ম্যাচের ফল জানতে সুপার ওভারের সহায়তা নিতে হয়। আর সেখানে দারুণ এক জয় পেয়েছে রোডেশিয়ানরা।

সুপার ওভারের প্রথম বলেই পাকিস্তান হারায় ইফতিখার আহমেদকে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ১ রান করে যোগ করে স্কোর বোর্ডে। চতুর্থ বলে খুশদিলকে মুজারাবানি বোল্ড করলে সুপার ওভারের নিয়ম অনুযায়ী ২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। এতে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩ রান!

রাজা প্রথম বলেই এক রান নিয়ে স্ট্রাইক এনে দেন টেলরকে। দ্বিতীয় বলে কোনো রান না এলেও তৃতীয় বলে ভুল ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত রানের দেখা পেয়ে যান টেলর। এতে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় সফরকারী, এড়ায় হোয়াইটওয়াশ।

এর আগে ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। একটি ছক্কা এবং ১৩টি চারের সাহায্যে ১৩৫ বলে ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন ৩৪ বছর বয়সী উইলিয়ামস। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান টেলরও। ৬৫ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

উইলিয়ামস এবং টেলরের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের দিনেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ হাসনাইন। ১০ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন ২০ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া একটি উইকেট নেন আরেক পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান খেই হারায় শুরুতেই। দলীয় ৪ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ইমাম উল হক। এরপর দলীয় ৬ রানে আরেক ওপেনার ফখর জামান ও ২০ রানে তরুণ ব্যাটসম্যান হায়দার আলিকে হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

একপ্রান্ত আগলে রেখে সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০) ও ইফতিখার আহমেদ (১৮) তার যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেননি। ষষ্ঠ উইকেটে খুশদিল শাহের সাথে জমে যায় বাবরের জুটি। ৪৮ বলে ৩৩ রান করে খুশদিল বিদায় নিলে ভাঙে ৬৩ রানের পার্টনারশিপ। তবে খুশদিলের মতই বাবরকে দারুণ সঙ্গ দিতে থাকেন ওয়াহাব রিয়াজ। তবে জয় থেকে ২৮ রান দূরে থাকতে ফিরে যান তিনি। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম আউট হলে নতুন করে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। আউট হওয়ার আগে ১২৫ বলে ১২৫ রান করা বাবর হাঁকান ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছল ১৩ রান। প্রথম বল ও শেষ বলে মোহাম্মদ মুসার হাঁকানো দুটি চারে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি শিকার করেন পাঁচটি উইকেট। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান রিচার্ড এনগারাভা ও ডোনাল্ড টিরিপানো।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/১১০