মোসাদ্দেক-আল আমিনের ব্যাটে চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আল আমিন জুনিয়র ব্যাটে লাগার পর প্রান্ত বদল করলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সাথে সাথেই বাইরে অপেক্ষমান সেন্ট্রাল জোনের ক্রিকেটার সাপোর্ট স্টাফদের মাঠের ভেতরে ভো-দৌড়। উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা গোটা দল। কেননা ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে বিসিবি সাউথ জোনকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সেন্ট্রাল। ৪৫ বল বাকি থাকতে এই জয় তুলে আনেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও আল আমিন জুনিয়র। বৃথা গেছে নাসুম আহমেদের স্পিন ঘূর্ণি।

১৬৪ রানের মাঝারি মানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল সেন্ট্রাল জোন। ৬৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন সৌম্য সরকার ও মিজানুর রহমান। দলীয় ১২.১ ওভারে ৬৫ রানের সৌম্যের বিদায়ে প্রথম উইকেট হারায় সেন্ট্রাল। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২১ রান করেন সৌম্য। দলীয় ১১ রান যোগ হতেই আরও তিন ব্যাটারকে হারায় দলটি।

ফিরে যান টপ অর্ডারে নামা আব্দুল মজিদ (১), চারে নামা মোহাম্মদ মিঠুন (৪) ও ওপেনার মিজানুর রহমান (৩৯)। মিজানুরের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়। বিনা উইকেটে ৬৪ রান থেকে ৭৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে সেন্ট্রাল জোন। সেখান থেকে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে নিয়ে যান মোসাদ্দেক ও আল আমিন।

৮৮ রানের সেই অবিচ্ছিন্ন জুটি সেন্ট্রালকে শিরোপার বন্দরে এনে পৌঁছে দেয়। শুরুটা ধীর গতির করলেও, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী রান বাড়াতে থাকেন দু’জন। আল আমিন সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন দলের পক্ষে। তারা ৬৯ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬ বাউন্ডারির মারে। অপরদিকে অধিনায়ক মোসাদ্দেক ৮৫ বল খেলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ৩৩ রান।

সাউথ জোনের হয়ে ১০ ওভারে ১ বাউন্ডারিতে ৩২ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন নাসুম আহমেদ। ১ উইকেট লাভ করেন মেহেদী হাসান। এদিন নিষ্প্রভ ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। আগের ম্যাচে এই সেন্ট্রালের বিপক্ষেই ৪ উইকেটে পেলেও, এবার কোনো উইকেট পাননি। ৮ ওভার বল করে ১ মেইডেনসহ খরচ করেছেন ৩২ রান।

এর আগে ফাইনালের লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিসিবি সাউথ জোন মাত্র ১৬৩ রানেই গুঁটিয়ে যায়। জাকির হাসানের দল ১৬৪ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেন সৌম্য-মোসাদ্দেকদেরকে। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বেশ ভালো এক শুরু পায় সাউথ জোন। তবে ৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করে এনামুল হক বিজয় ফিরলেই বিপর্যয় শুরু হয় সাউথ জোনে। এরপর একের পর উইকেট হারাতে থাকে দলটি। মিডল অর্ডারে দলের ভরসা হয়ে এদিন দাঁড়াতে পারেননি তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসান, মেহেদী হাসান, ফরহাদ রেজারা।

সেন্ট্রালের বোলিং তোপের সামনে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি সাউথ জোন। ৪৮.৫ ওভারে গুঁটিয়ে যায় দলটির ইনিংস। সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে ওপেনার পিনাক ঘোষের ব্যাট থেকে। ৪৭ বলে ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় এই ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া ৪৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩১ রান করেন নাহিদুল ইসলাম। এর বাইরে অমিত হাসান ৬১ বলে ২৯ ও অধিনায়ক জাকির হাসান ২৬ বলে ১৪ রান করেন।

সেন্ট্রালের হয়ে এক রবিউল ছাড়া বাকি সব বোলারের সবাই উইকেট পেয়েছেন। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল ইসলাম অপু, সৌম্য সরকার, হাসান মুরাদ ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা