নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে লিডে আছে বাংলাদেশ দল। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৩৮৬ রানে। বাংলাদেশ দল তৃতীয় দিন শেষ করেছে ৭ রানে। দিন শেষে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রানের।
পাকিস্তানে অলআউট করে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের কোনো বিপদ হতে দেননি দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান্ ইসলাম। জয় ২ রানে অপরাজিত থাকলেও শুন্য রানে অপরাজিত আছেন সাদমান। তারা দু’জনেই চতুর্থ দিন সকালে আবারো ব্যাট করতে নামবেন।
এর আগে পাকিস্তান দল নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায়। বল হাতে দুর্দান্ত করেছেন মিরাজ। ফাইফারে ভেঙে দিয়েছেন পাকিস্তানের লিডের স্বপ্ন।
সফরকারীদের ওপেনার আযান সেঞ্চুরি করেছে। দ্বিতীয় দিন হতাশায় কাটানো বাংলাদেশ তৃতীয় দিনেও ম্যাচে ফিরেছে। আজ সকালে এক উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান ২০৭ রান তুলতেই গুটিয়ে গেছে। বল হাতে দ্বিতীয় দিন ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ তৃতীয় দিনে প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়েছে। সেঞ্চুরিয়ান আযান ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেছেন ১৪ বাউন্ডারিতে। ৪৫ রান করেছেন আরেক ওপেনার ইমাম উল হক।
এক সেঞ্চুরির সঙ্গে তিন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। সাত চার ও এক ছক্কায় ১২০ বলে ৬০ রান করেছেন আব্দুল্লাহ ফজল। ৫৮ রান করেছেন সালমান আগা। ৯৪ বলের ইনিংসে ছয় চারের সঙ্গে এক ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান রিজওয়ান করেছেন ৫৯ রান। খেলেছেন ৭৯ বল, বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ৮টি। পাকিস্তান ৩৮৬ রান তুলতে পেরেছে তাদের ব্যাট চড়েই।
এর আগে বাংলাদেশ দল নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান তুলে। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের সূচনাটা মোটেও ভাল হয়নি। টেস্টের প্রথম সকালে দ্রুতই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। দলীয় ১৮ রানে ব্যক্তিগত ৮ রানে ওপেনার জয় ও দলীয় ৩১ রানে আরেক ওপেনার সাদমান ফিরলে বিপদে পড়ে টাইগাররা। এই ওপেনার ৩০ বলে করেন ১৩ রান।
পরপর দুই উইকেট হারানোর পর টাইগার হাল ধরেন অধিনায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে দু’জনে মিলে গড়েন ১৭০ রানের জুটি। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তৃতীয উইকেটে শান্ত ফিরেন প্যাভেলিয়নে। বারটি চার ও দুই ছক্কায় ১৩০ বলে খেলেন ১০১ রানের নান্দনিক ইনিংস। তার বিদায়ে দলীয় ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ফিরে গেলেও অবিচল থাকেন মুমিনুল হক। তিনিও ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। তবে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছেন তিনি। ৯১ রানের দারুণ ঝলমলে এক ইনিংস খেলে থামেন ২০০ বলে দশ বাউন্ডারিতে। ২৭৬ রানে তার বিদায়ে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। পঞ্চম্ উইকেটে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ৬২ রান তুলেন। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে লিটন ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাট করেন মুশফিকুর রহিম। খেলেন ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস। তার আট চারে ১৭৯ বলের ইনিংসেই বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের পূঁজি পায়। দলীয় ৩৮৪ রানে নবম উইকেটে মুশফিক ফিরেন প্যাভেলিয়নে।
শেষ উইকেটে তাসকিন নাহিদ রানাকে নিয়ে ২৯ রান যোগ করলে বাংলাদেশের স্কোর হয় ৪১৩ রান। তিন চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ২৮ রানের দারুণ কার্যকরী এক ইনিংস খেলে তাসকিন প্যাভেলিয়নে ফিরলে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদ রানা।
পাকিস্তানের হয়ে শাহীন আফ্রিদী ৩টি, মোহাম্মদ আব্বাস ৫টি করে উইকেট লাভ করেন।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০
































