যুব ভারতী থেকে বুকেট জলিল, ৭০ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করবে বাংলাদেশ?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দিনটা ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ সাল। ভারতের কলকাতায় অবস্থিত সল্ট লেকের বিবেকানন্দ যুব ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে স্বাগতিক দেশের মোকাবেলায় নেমেছিল বাংলাদেশ। সেইসময় শুধু ভারতকেই নয়, মাঠে থাকা ৬১ হাজারের বেশি ভারতীয় দর্শককে মোকাবেলা করতে হয়েছিল জামাল ভূঁইয়াদের।

তবে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে স্টেডিয়ামে থাকা দর্শকই নয় শুধু, গোটা ১৩০ কোটির ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিক থেকে সাদ উদ্দিনের সেই দুর্দান্ত গোল। যদিও জয়ের অনেকটা কাছে গিয়েও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানে এবার বাংলাদেশ দলের সামনে রয়েছে সাড়ে তিন কোটি জনগণের দেশ মালয়েশিয়া। তাদেরই দেশে, তাদের ঘরের মাঠ বুকেট জলিল স্টেডিয়ামে তাদের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্বে ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বুকেট জলিল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। আর সেই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৭০ হাজারেরও বেশি।

বাংলাদেশের সামনে তাই মালয়েশিয়ার চেয়ে বড় বাঁধা হতে যাচ্ছে স্বাগতিক দর্শক। তবে সল্ট লেকের সেই স্মৃতি থেকে বাংলাদেশ দল অনুপ্রেরণা নিতেই পারে। এছাড়া আশার কথা মালয়েশিয়া এত বড় দলও নয়। বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ ধাপ এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। এছাড়া চোটে জর্জরিত থেকে, সবশেষ দুই ম্যাচে যে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ, সেখান থেকে অনায়াসেই অনুপ্রেরণা নেওয়া যায়।

আশার কথা বাংলাদেশের এই ম্যাচ থেকে হারানোর কিছু নেই। তাই চাপও নেই বাড়তি। স্বাগতিক সমর্থকদের নিয়ে আলাদাভাবে মাথা ঘামাচ্ছেন না প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। জানিয়েছেন সকল চাপ স্বাগতিক দলের ওপরই থাকবে। বরং তাদের সামনে এটাই সঠিক সময় এবং সুযোগ, কিছু করে দেখানোর।

ক্যাবরেরা বলেন, ‘৭০ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে পারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাই নয় শুধু, অনেক ফুটবলারের কাছে স্বপ্নের মতো। এতো দর্শকের সামনে, এমন পরিবেশে, এমন দলের বিপক্ষে খেলা, যারা কিনা বড় কিছুর প্রত্যাশার জন্য লড়ছে। আমাদের জন্য এটাই সঠিক সময় করে দেখানোর যে, যে কারোর বিপক্ষেই লড়তে পারি। ইন্দোনেশিয়াসহ শেষ তিন ম্যাচে আমরা যে পারফর্মেন্স করেছি, সেটা ধরে রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। সব চাপ মালয়েশিয়ার ওপর। তাদের ঘরের মাঠে ম্যাচ, র‍্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে, এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ তাদের সামনে। আবারও বলছি দারুণ সুযোগ রয়েছে আমাদের সামনে, যে কারোর বিপক্ষেই লড়তে পারি আমরা। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে লড়তে চাই।’

শুধুমাত্র কোচই নয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মুখেও একই সুর। গোটা বাংলাদেশের মানুষকে গর্বিত করতে চান তারা। কিছু একটা নিয়ে ফিরতে চান দেশে। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এখানে। দেশের মানুষের জন্য তাই ভালো একটা ফল চান তিনি।

জামাল বলেন, ‘সব সময় খেলোয়াড়দেরকে বলি নিজের জন্য খেল না, তোমার সতীর্থ আর দলের জন্য খেল। যখন তুমি জাতীয় দলের ফুটবলার, তখন তুমি জাতীয় দলকেই নয় শুধু, প্রায় ২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছ। প্রতিটি ট্যাকল-গোল তোমার একার নয়, গোটা দেশের, বাংলাদেশের মানুষের। আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। সেরাটা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে গর্বিত করতে হবে। আর সেটাই আমরা করতে চাই। দেশের মানুষকে ভালো একটা ফল উপহার দিতে চাই।’

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুখোমুখি হয়েছে মোট ৯ বার। যেখানে ৬ বারই জয়ের হাসি হেসেছে মালেশিয়া। বিপরীতে বাংলাদেশ দল জিতেছে ১টি ম্যাচ। ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমসের ম্যাচে এসেছিল সেই জয়। আর বাকি ২ ম্যাচ হয়েছে ড্র। আশার কথা সেই দুই ম্যাচই বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সবশেষ দুই বারের দেখা। যার একটি ২০১২ সালে প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। আরেকটি ২০১৫ সালে প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র।

বর্তমানে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্বে ‘ই’ গ্রুপে চার দলের মধ্যে কোনো টান দুই হারে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই সবার নিচে তলানিতে চার নম্বরে আছে বাংলাদেশ দল। তুর্কমেনিস্তান এক জয় ও এক হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছে। সমান একটি করে জয় ও পরাজয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে মালয়েশিয়া। আর দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় নিয়ে সবার শীর্ষে আছে গ্রুপ ফেবারিট বাহরাইন।

দারুণ ফুটবল খেলেও, প্রথম দুই ম্যাচে টানা হার দেখতে হয়েছে দলকে। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী বাহরাইনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হার দেখে জামালরা। পরবর্তীতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আরেক শক্তিশালী দল তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে প্রায় সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে ২-১ ব্যবধানে হার দেখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এবার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মালয়েশিয়া। দুই দলের লড়াইয়ে ফলাফল কী হয়, সেটা জানা যাবে রাতেই। তবে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ থেকে বাংলাদেশ মানুষের অপেক্ষায় আনন্দের বার্তার জন্য। শেষটা রঙিন করবে ক্যাবরেরার দল, সেটা দেখতে চান সবাই। যুব ভারতীর সেই ফুটবল যাবে বুকেট জলিলেও, সেই আশায় ১৬ কোটি মানুষ। তরুণ এক দল নিয়ে জামালরা পারবেন তো ৭০ হাজার সমর্থককে সাক্ষী রেখে গোটা মালয়েশিয়াকে একেবারে স্তব্ধ করে দিতে?

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা