যেদিন শুরু হয়েছিল রাজার ‘রাজত্ব’

নাসিম আহমদঃ কতো আসেন কতো আবার নিরবে চলে যান কিংবা ঝড়ে পড়েন। মাঠের মধ্যে যতক্ষণ পা রাখার লড়াই চালাতে পারেন, ততক্ষনই ঠাই হয় লাইমলাইটের ঝলমলে আলোয়। মিশে থাকেন ভক্ত-সমর্থকদের রাগে-অনুরাগে। তবে এমনও আছেন যারা ক্রিকেট মাঠে থাকা না থাকা সমান, বিশ্রামে থাকলেও তাদের নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। যাদের সংখ্যা নিত্যান্তই হাতেগোনা। এই হাতেগোনাদেরই একজন সাকিব আল হাসান। যার নাম শুনলেই মুহুর্তেই চোখের সামনে ভাসমান হয়ে উঠে কত-শত ক্রিকেটীয় বীরত্ব।

ক্রিকেটের ২২ গজে কখনও বোলার-ব্যাটসম্যানদের শাসনের ভূমিকায় আবার কখনো প্রতিবাদীর ভূমিকায়। নিজে তো একা লড়াই করতে জানেনই, সঙ্গে আবার অন্যের লড়াইয়ে পাশে থাকতেও বেশ উস্তাদ তিনি। অসংখ্য আলোর মাঝে একখণ্ড সূর্য। ফুটবলার বাবার একমাত্র ছেলে। ছেলেকেও বানাতে চেয়েছিলেন একজন ফুটবলার। সাকিবেরও যে ইচ্ছে ছিল না তা নয়। তবে সে পথে আর হাঁটা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই মনযোগ দেন।

অধ্যম্য সাহসের সাথে দৃঢ় সংকল্প, পিছলে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। ধীরে ধীরে নিজের পথকে সুগম করে মাগুরার ফয়সাল থেকে হয়ে উঠেন বাংলার সাকিব। স্বপ্ন আর গর্বে মিশে থাকা জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ হয়। অভিষেকটা আহামরী না হলেও, একেবারে মলিন যে তাও নয়। ব্যাট হাতে ৩০ রান যার জন্য মোকাবেলা করতে হয় প্রায় দিগুণ বল। স্পিন ভেল্কীতে শিকার করেন ১টি উইকেট।

এই যে শুরু আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যাটে-বলে ছড়িয়ে গেছেন উত্তাপ। প্রতিপক্ষের কাছে পরিণত হয়েছেন ত্রাস হিসেবে। যার সব ক’টাই করেছেন নিজের প্রতিভা আর ক্রিকেটীয় ক্ষমতাবলে। স্ব-মহিমায় মহিমান্বিত করেছেন বাংলার ক্রিকেটকে। ব্যাক্তিগত প্রাপ্তির সাথে দলের প্রাপ্তির ভাণ্ডারও বাড়ে। তবে অনেক সময় সঙ্গী হয় হাপিত্যেশ।

‘দেশের ক্রিকেট রাজ্যের মুকুটধারী রাজা সাকিব’, ‘বাংলার জান বাংলার প্রাণ সাকিব আল হাসান’। এরকম অসংখ্য বাক্যপ্রয়োগে প্রাণটা জুড়ায় বার বার। বাংলাদেশের পোস্টার বয়ের খ্যাতিটাও জৌলশে ভরপুর। দেশের ক্রিকেটে মহাতারকা। কাউন্টি থেকে বিগ ব্যাশ, ক্যারিবীয়ানদের ক্রিকেট উৎসব সিপিএল কিংবা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল সবখানেই পছন্দের তালিকায় সাকিব আল হাসান।

তবে ছোট্ট এক ভুলের মাশুল গুনে চলেছেন। যার জন্য ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন। তবে ঢেঁকি যে স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে। তাইতো ক্রিকেটে না থেকেও আলোচনায় তিনি। অবশ্য সাকিবমাখা আলোচনায় ক্রিকেটের অস্তিত্ব খুঁজে নিতে হয়না। দেশের ক্রিকেটকে অনেক পূর্ণতা দিয়েছেন, এখনও অনেক দেওয়ার বাকি। অপেক্ষাটা কেবল সময়ের।

যেই পথ মাড়িয়ে বিশ্বসেরা হয়েছেন, ১৪ বছর আগে ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট সেই পথটিতে হাঁটা শুরু করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্রিকেট মাঠে সার্ভিস দেওয়া সাকিবের অভিষেকটা হয়েছিল আজকের এই দিনে। ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই তিনি আবারও মাঠে ফিরবেন। কোটি বাঙালির প্রত্যাশা দেশের ক্রিকেটের রাজা ফিরবেন রাজকীয় বেশেই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা