রাতে ক্রিকেট উৎসব শেষে সকালেই উঠে গেলো সিলেট স্টেডিয়ামের পিচ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট্ লিগ আয়োজনের জন্যই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের উইকেট তৈরি করা হয়েছিলো। কাগজ-কলমে করোনাভাইরাসের কারণ থাকলেও অদৃশ্য কারণে লিগ আয়োজন হয়নি। যে করোনাভাইরাসের জন্য ক্রিকেট লিগ হয়নি, সেই করোনাভাইরাসকে জয় করেই এরপর দু’টি বড় টুর্ণামেন্ট হয়েছে।

    আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতেই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের উইকেটে ক্রিকেট উৎসব হয়েছে। সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত টি-২০ টুর্ণামেন্টের শিরোপা জিতেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স। সকাল হতেই পাল্টে গেলো স্টেডিয়ামের চিত্র।

    বিসিবির বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ এ.কে.এম মাহমুদ ইমন বলছিলেন, সকালে মাঠেই তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন। রাতে যে বাইশ গজে চার-ছক্কার লড়াই দেখেছেন, সকালে গিয়ে দেখেন একদল শ্রমিক তুলে ফেলছেন সেই বাইশ গজের মাটি। কারণটাও জানেন না তিনি।

    রাতে ক্রিকেট উৎসব শেষে, ভোর হতেই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের পিচ তুলার কাজ শুরু করেন শ্রমিকেরা। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা লিগ আয়োজনে আশাবাদী ছিলেন। কারণ যে করোনাভাইরাসে লিগ হচ্ছে না, সেই করোনাভাইরাসকে জয় করে ক্রিকেট আয়োজন করে দেখিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এবার তাই লিগ বা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো টুর্ণামেন্ট আশা করছিলেন তারা। কিন্তুু হঠাৎ করে পিচ তুলে ফেলায় তাদের ‘আশা’ নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

    পিচ তুলে ফেলায় ক্রিকেটের এই মৌসুমে আপাতত আর লিগ আয়োজনের কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্য কোনো টুর্ণামেন্টও যে আয়োজন হবে তারও নিশ্চয়তা নেই। যদিও সিলেটের একটি একাডেমি একটি টুর্ণামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনায় ছিলো। স্টেডিয়াম পেলে একাডেমিগুলোকে নিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের অংশ গ্রহণে একটি টুর্ণামেন্ট আয়োজনের কথা ছিলো। আপাতত সেই সম্ভাবনাও আর নেই।

    তবে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা পিচ তুলে ফেলার যৌক্তিক কারণও দেখিয়েছেন। রাতে এসএনপি স্পোর্টসের সঙ্গে কথা হয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম-সম্পাদক বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মোঃ হানিফ আলমের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ফুটবলের জন্য পিচ তুলে ফেলতে হচ্ছে। যদিও আরে আগেই সেটা হওয়ার কথা ছিলো। অবশ্য জানতে চাইলে পিচ তুলে ফেলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল। জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

    জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সম্পাদক হানিফ আলম বলেন, ‘আগামি ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে হবে। আমরা আগেই পিচ তুলে ফেলতে চাই ছিলাম। কিন্তুু ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের টুর্ণামেন্টের জন্য পিচ তুলা হয়নি। টুর্ণামেন্ট শেষে তাই পিচ তুলা হয়েছে।’ পিচ রেখে ঘাস লাগিয়ে ফুটবল ম্যাচটি আয়োজন করার সুযোগ ছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, সেই সুযোগ নেই। পিচ তুলে ঘাস লাগিয়ে মাঠ লেভেল করতে হবে।’

    বিসিবির সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ এ.কে.এম মাহমুদ ইমন এসএনপি স্পোর্টসকে বলেন, ‘আমি সকালে মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে টুর্ণামেন্টের কিছু কাজ বাকী ছিলো সেটা করার জন্য। মাঠে গিয়ে দেখি পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। আমরা আশা করছিলাম হয়তো ক্রিকেটের আরো কিছু আয়োজন হবে। টুর্ণামেন্ট শেষে ২৪ ঘন্টার পেরুনের আগেই পিচ তুলা আমাকে অবাক করেছে।’

    সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক জুনিয়র ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সাদিকুর রহমান তাজিন বলেন, আমরা টুর্ণামেন্টের সফল আয়োজন করেছি। আপাতত আমাদের আর কোনো খেলা নেই। পিচ নিয়ে তাই আমরা কোনো মন্তব্য করবো না।’

    এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০