রিশাদের ঘূর্ণির পর মঈনের হ্যাটট্রিক, রেকর্ড গড়া ম্যাচে দুর্দান্ত জয় কুমিল্লার

0
7

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সেঞ্চুরি, হ্যাটট্রিক, চার উইকেট, নতুন রেকর্ড কী ছিল না ম্যাচে! হাই-স্কোরিং ম্যাচে সাগরিকায় টি-টোয়েন্টির আমেজ। আর সেখানে বাজিমাত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৭৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কুমিল্লা।

উইল জ্যাকসের সেঞ্চুরি, লিটন দাসের জড়ো ব্যাটিং ও মঈন আলির ক্যামিওতে বিপিএলের ইতিহাসে রেকর্ড গড়া পুঁজি পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জবাবে খেলতে নেমে কড়া জবাব দিতে থাকলেও, রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিন ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। স্বাগতিকদের মরণ কামড় দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন অধিনায়ক মঈন। আগের রাতে খেলতে এসে, পরদিন দুপুরেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন মঈন।

কুমিল্লার দেওয়া ২৪০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে পাল্টা জবাব দিতে থাকে চট্টগ্রাম। তানজিদ তামিম ও জশ ব্রাউন মিলে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে শক্ত জুটিতে কুমিল্লাকে চেপে ধরেন। ৭.৩ ওভার স্থায়ী তাদের ৮০ রানের দারুণ জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রানের ক্যামিও খেলে ফিরে যান তামিম।

এরপরই উইকেট হারানো শুরু চট্টলার দলের। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে জশ ব্রাউন, টম ব্রুস, শাহদাত দিপুরা দিশেহারা হন। শেষে বল হাতে জাদু দেখান মঈন আলিও। ইনিংসের ১৭তম ওভারে প্রথম তিন বলে শহিদুল, আল আমিন ও বিলালের তিন উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকও পূরণ করেন মঈন। যদিও মাঝে সৈকত আলি ঝড় তুলেছিলেন, তবে যথেষ্ট ছিল না জয়ের জন্য।

১৬.৩ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তামিমের পর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে ব্রুসের ব্যাট থেকে। ২৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রান করেন এই অজি ব্যাটার। ১১ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৩৬ রানের ক্যামিও খেলেন সৈকত আলি।

কুমিল্লার হয়ে ৪টি করে উইকেট শিকার করেন রিশাদ হোসেন ও মঈন আলি।

এর আগে বিপিএলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানের বিশাল এক পুঁজি পায় দলটি। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন উইল জ্যাকস। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ফিফটি হাঁকিয়েছেন লিটন দাস ও মঈন আলি।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী কুমিল্লার দুই ওপেনার লিটন দাস ও উইল জ্যাকস। দুজনে মিলে ৭.৫ ওভারে ৮৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস খেলা লিটনের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি।

তবে টপ অর্ডারে নেমে গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরেন তাওহীদ হৃদয়। চারে নেমে ব্রুক গেস্ট খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১১ বলে ১০ রান করে বিদায় নিয়েছেন দলীয় ১১১ রানের মাথায়। তবে এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি কুমিল্লা। মঈন আলিকে সাথে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে দলের রান পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান।

৫৩ বলে ৫ চার ও ১০ ছক্কায় ১০৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন উইল জ্যাকস। ইংলিশ ব্যাটারের হাত ধরে চলতি বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া গেল। দুটোই এসেছে কুমিল্লার ব্যাটারদের হাত ধরে। এদিকে অপরপ্রান্তে ২৪ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মঈন আলি।

চট্টগ্রামের হয়ে ২ উইকেট পেলেও, ৪ ওভারে ৪৯ রান খরচ করেছেন শহিদুল ইসলাম। ২ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন সৈকত আলি। ৪ ওভারে ৬৯ রান খরচ করলেও, কোনো উইকেট পাননি আল আমিন হোসেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here