লড়াইটা বার্সা-বায়ার্নের নাকি মেসি-লেভানডফস্কির?

বিশেষ প্রতিবেদনঃ লড়াইটা আসলে কার? বার্সেলোনা-বায়ার্ন মিউনিখ নাকি লিওনেল মেসি-রবার্ট লেভানডফস্কির? উত্তর খুঁজতে গেলে হিমশিম খেতেই হবে! চ্যাম্পিয়নস লিগে রাতে বার্সা-বায়ার্নের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এরকম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার থেকে না খোঁজাকেই উত্তম বলে মনে হবে।

কারণ, কাগজে-কলমে বায়ার্নের ধারে-কাছেও বার্সা। হিসেব করে নিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে একেবারে। চলতি মৌসুমে উড়ন্ত ফর্মে বাভারিয়ানরা। ঘরোয়া ডাবল নিশ্চিত হয়ে গেছে জার্মান ক্লাবটির। সবচেয় বড় কথা জয়ের ধরন। চলতি ২০২০ সালে একটি ম্যাচেও হারের মুখ দেখেনি বায়ার্ন। সবশেষ ২৭ ম্যাচে মাত্র একটি ড্র রয়েছে তাদের।

অপরদিকে বার্সা মৌসুমের শুরু থেকেই ধুঁকছে। নামের পাশে নেই একটি শিরোপাও। নিজেদের হাত থেকে ফসকে দিয়েছে লা লিগার শিরোপা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত দুই মৌসুমে যেভাবে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা, শঙ্কার মেঘ সেখানেই তৈরি হয়েছে। তবে টানা ১৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা এবং সবশেষ ম্যাচে নাপোলিকে হেসে-খেলে হারানো থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে সেতিয়েন শিষ্যরা।

পরিসংখ্যানে এই ম্যাচে যোজন যোজন পিছিয়ে বার্সা। দুই দলের দশ বারের দেখায় মাত্র দুই বার জিততে পেরেছে তারা। সেটিও আবার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্প। অপরদিকে বায়ার্নের জয় ছয়টিতে। বাকি দুটি ম্যাচ নিষ্পত্তি হয়েছে ড্র’তে। আরও একটি পরিসংখ্যান হলো দুই দলের শিবিরেই পাঁচটি করে শিরোপা রয়েছে। সবশেষ ২০০৯, ২০১৩ এবং ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হয়েছিল দুই জায়ান্ট। যেখানে জয়ী দলই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের বিজয়ী হয়েছে।

এই ম্যাচে নিশ্চিতভাবে হাইলাইটসে থাকবেন লিওনেল মেসি ও রবার্ট লেভানডফস্কি। তবে সবার ধারণা মেসির চেয়ে লেভানডফস্কিই আলো ছড়াবেন বেশি। পরিসংখ্যান যে কথা বলছে পোলিশ স্ট্রাইকারের দিকেই। চলতি মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে ৫৪ গোল করেছেন এই তারকা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৩ গোল তারই। তবে মেসির কাছে যে যেকোনো পরিসংখ্যানই মামুলি। নিজের দিনে কি করতে পারেন আর্জেন্টাইন জাদুকর সেটি জানা সকলেরই।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বার্সা একাদশে ফিরছেন সার্জিও বুসকেটস ও আর্তুরো ভিদাল, সেটি এক প্রকার নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে রাকিটিচ ও গ্রীজম্যানকে দেখা যেতে পারে বেঞ্চে। এছাড়া ইনজুরি থেকে সেরে উঠলেও শুরুর একাদশে ওসমান ডেম্বেলেকে দেখা যাবে কিনা, সেই নিয়েও রয়েছে সংশয়।

অপরদিকে বোয়াটেং ও কিংসলে কোম্যানের ইনজুরি শঙ্কা থাকলেও বায়ার্ন একাদশে থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে ইনজুরির কারণেই বেঞ্জামিন প্যাভার্ড যে থাকছেন না সেটিও এক প্রকার চূড়ান্ত। বেঞ্চে থাকার কথা কৌতিনহোরও।

পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, ৯০ মিনিটের ফুটবলে যেকোনো সময়ে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আর সেটি যদি হয় নকআউট, তখন উত্তেজনার পারদ থাকে আরও উঁচুতে। ফুটবলের সৌন্দর্যতাটা প্রকাশ পায় সেখানেই। পর্তুগালের লিসবনে শেষ চারের উঠার লড়াইয়ের জমজমাট এই ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায়। টেলিভিশন পর্দায় সনি টেন-২’এ সরাসরি সম্প্রচার হবে ম্যাচটি। ফুটবল প্রেমীদের পাখির চোখ থাকবে সেখানেই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা