শতাব্দীর শেষ, বাংলাদেশের শুরু

আশিক উদ্দিন:: একটি শতাব্দী তখন শেষের পথে। বাংলাদেশের ক্রিকেট টিক সেই সময়টা শুরু করছে পথচলা। বিশ্ব ক্রিকেটে উড়া শুরু লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পাতাকা। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি- যা জিতলে পাওয়া যাবে বিশ্বকাপ নামের স্বপ্নলোকের চাবি, সেটা আকরাম খানের নেতৃত্বে জয় করলো টিম বাংলাদেশ, ফাইনালে হারালো আফ্রিকার দেশ কেনিয়াকে। সাইফুল ইসলামের সেই জয় সূচক রান এবং দুই হাত উচিয়ে দৌড়, উল্লসিত, উচ্ছাসিত ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের রঙ খেলা, এসবই বাংলাদেশ ক্রিকেটের রূপকথার প্রথম ধাপ।

১৯৯৬’র পরের বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল ২০০০ সালে, কিন্তু শতাব্দীর শেষ বছর বলে কথা; তাই ১৯৯৯ সালেই ক্রিকেটের আদি পিতা ইংল্যান্ডে চতুর্থ বারের মতো বিশ্বকাপের আসর বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ খেলে বি গ্রুপে। যেখানে গ্রুপ সঙ্গী ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ক্রিকেটের বড় পরাশক্তি। অবশ্য স্কটল্যান্ড বাদে। সেই স্কটল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে বিশ্বকাপে প্রথম লাল সবুজের জয় পতাকা উড়েছিল, ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মিনহাজুল আবেদিন।

১৭ মে, ১৯৯৯ সাল
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ, বিপক্ষ দল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৭.৪ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বলার মতো স্কোর করতে পারেননি কোন ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেছিলেন এনামুল হক। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং করতে এসে ৩৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রফিক ও নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট তুলে নেন। এবং দিনশেষে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে নিজেদের জয় তুলে নেয়। আর টিম বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই হারের স্বাদ পায়।

প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ
টিম বাংলাদেশ তাদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে। এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল তাদের। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বসে একটু বিমর্ষই ছিল টিম বাংলাদেশ। কিন্ত নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তাদের মতোই নব্য এবং নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা স্কটল্যান্ডকে সেদিন পরাজিত করে বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। সেদিন বাংলাদেশ শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে ৯ উইকেট হারিয়ে, ৫০ ওভার শেষে। সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ৪৬.২ ওভারে ১৬৩ রানে নিজেদের ইনিংস গুটিয়ে ফেলে। হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম,খালেদ মাহমুদ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়ে বাংলাদেশ দল বেশ চনমনে মেজাজেই ছিল। এরপর বাংলাদেশের চতুর্থ ম্যাচ ছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে টিম বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৫০ ওভারে মাত্র ১৭৮ রান। ৫৩ রান করে এদিনও সর্বোচ্চ রান মিনহাজুল আবেদীন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৯.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া জয়ের দাঁড় প্রান্ত ছুয়ে ফেলে। বাংলাদেশ মোটামুটি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় সেদিন। কিন্ত বিশ্বকাপের নতুন দল হিসেবে তখনও নাটকীয়তা বাকি রেখেছিল বাংলাদেশ।

৩১ মে, ১৯৯৯ সাল
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সাইদ আনোয়ার, শোয়েব আক্তারদের নিয়ে গড়া ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল তখন পাকিস্তান। তার বিপরীতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা নব্য দল বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আকরাম খানের ৪২, শাহরিয়ার হোসেনের ৩৯ এরকম সবার ছোট ছোট সংগ্রহে ৫০ ওভার শেষে ২২৩ রান সংগ্রহ করে নেয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। দলীয় ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এরপর নিয়মিত উইকেট বিরতিতে ১৬১ রানে যেয়ে থামে তাদের ইনিংস। মিনহাজুল আবেদীন, খালেদ মাহমুদ, নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রত্যেকেই নেন দুটি করে উইকেট। আর টিম বাংলাদেশ পায় তাদের প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় জয়।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০