শাস্তিতে অজ্ঞান সাঁতারু, দৃষ্টিকটু কাজ দেখে জাপানি কোচের পদত্যাগ!

সংগ্রহীত ছবি।

স্পোর্টস ডেস্কঃ জাপানিরা নাকি সৎ ও নিষ্ঠাবান। একই সাথে উদার মনের মানুষ। এটিরই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণের দেখা মিললো এবার। বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ঘটেছে লজ্জাজনক একটি বিষয়। ঘটনাটি ঘটেছে সাঁতার ফেডারেশনে।

বর্তমানে এসএ গেমসের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে তিন মাসের জন্য বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছেন জাপানি কোচ তাকেও ইনোকি। প্রতিদিনের নিয়ম অনু্যায়ী এসএ গেমসে অংশ নিতে যাওয়া সাঁতারুদেরকে নিয়ে অনুশীলন করছিলেন। একই সাথে জুনিয়র দলের অনুশীলন চলছিল। সেখানে জুনিয়র কোচ অনুশীলন করাচ্ছিলেন।

সে জায়গায়তেই ঘটেছে আসল ঘটনা। ক্যাম্পে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ম ভঙ্গের দায়ে শরিফা আক্তার মিম নামের এক জুনিয়র সাঁতারুকে শাস্তি দিচ্ছিলেন কোচেরা। তপ্ত রোদের মধ্যে শাস্তিটা এতটাই কঠোর ছিল যে, এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটে পড়েন মিম।

আর এটি দেখে ছুটে চলে আসেন জাপানি কোচ ইনোকি। এসময় তিনি মিমের জন্য দ্রুত পরিচর্যার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। এক পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতেও বলেন। কিন্তু তা না করে হাসি-ঠাট্টায় মত্ত ছিলেন জুনিয়র দলের কোচেরা। সাঁতার ফেডারেশনের জুনিয়র দলের দুই কোচ এসব অভিনয় করছেন বলে দাবি করেন।

কিছু সময় পর ভ্যানগাড়িতে করে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মিমকে। পরবর্তীতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও সুইমিং কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয় মিমকে। কিন্তু এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি জাপানি কোচ ইনোকি। এই ঘটনার পর নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ছিলেন। খান নি দুপুরের খাবারও।

সন্ধ্যার পর পুলিশের সহায়তা নিয়ে সুইমিং কমপ্লেক্স ছেড়ে চলে যান। যাবার সময় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে যান তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

ইনোকি বলেন, ‘ডিসেম্বরে হতে যাওয়া এসএ গেমসের আগে এমন সিদ্ধান্ত ছিল আমার জন্য কঠিন। তবে যে ব্যক্তি বা সংস্থা সাঁতারুদেরকে শারীরিক শাস্তি প্রদান ও অপদস্ত করে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিকে এই ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা