শুভ জন্মদিন ক্রিকেটের ‘পিতামহ’

পেশায় একজন ডাক্তার, কিন্তু নেশা ক্রিকেটের। ধ্যান-জ্ঞানে ছিলো ২২ গজ। নিজের নেশাকে শেষে পর্যন্ত তিনি পেশায় পরিণত করলেন। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবনের শেষ পর্যন্ত খেলে গেছেন স্বীকৃত ক্রিকেট। অবলিলায় বিধ্বস্ত করে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের বোলিং দূর্গ। ব্যাট হাতে উত্তাপ ছড়িয়ে গেছেন, যার উন্মাদনায় ছেয়ে গেছে পুরো গ্যালারি প্রাঙ্গন।

যার ব্যাটিং শিল্পে মুগ্ধ হয়ে রাস্তার দূরত্বের হিসেব ভুলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শকরা ছুটে আসতেন চাক্ষূষ ব্যাটিং শিল্প দেখতে। তিনি ছিলেন তখন বৃটিশ মুলুকের দ্বিতীয় সেরা জনপ্রিয় ব্যাক্তি। যিনি ক্রিকেট ব্যাট হাতে লিখেছেন অজস্ত্র ক্রিকেটীয় বীরত্বপূর্ণ কাহিনি। ৪৩ বছরের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে বৃটিশদের জার্সি গায়ে খেলেছেন ২২ টি টেস্ট। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ছিলেন রান মেশিন।

৮৭০ ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছেন ৫৪ হাজারেরও বেশি রান। বল হাতে শিকার করেছেন ২৮০০’র অধিক উইকেট। অর্ধশতকের ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ২৫১ অর্ধশতকের সাথে রয়েছে ১২৪টি সেঞ্চুরি। জনপ্রিয়তার উচ্চ আসন কি, তাঁরই প্রতিচ্ছবি ছিলেন তিনি। যে ম্যাচে খেলতেন সেখানে উপচে পড়তো দর্শক, আর উপচে পড়তো আয়োজকদের আয়। আয়োজকরা বাড়িয়ে দিতেন টিকিটের দাম। কিন্তু এতেও আপত্তি নেই দর্শকদের।

‘দ্যা চ্যাম্পিয়ন’, ‘ওল্ড ম্যান’সহ নানান তকমা গায়ে জড়িয়েছেন। ক্রিকেট মাঠে তার ‘দ্যা ফাদার’ তকমা ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। শুধু খেলা দিয়ে নয়, ক্রিকেট মাঠে ডাক্তারি পেশা কাজে লাগিয়ে অনন্য অসাধারণে তকমা জড়িয়েছেন। ক্রিকেটাররা আহত হলে তিনিও চিকিৎসা দিতেন। একবার তো এক ক্রিকেটারকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন।

শুধুমাত্র তিনিই নন, তাঁর পরিবার ছিলো ক্রিকেটের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ছেলেসহ অন্যান্য অনেক আত্মীয়-স্বজন খেলেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। তবে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো তিনি তার দুই পুত্রের সাথে খেলেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। এতক্ষণ যার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের বর্ণনা দেওয়া হচ্ছিল তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টলে জন্মগ্রহন করা উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস। সংক্ষেপে যিনি পরিচিত ডব্লিউ গ্রেস নামে।

যিনি কিনা লম্বা দাড়ি রেখে খেলে গেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। ইংলিশদের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি আসে গ্রেসে’র হাত ধরেই। মহাকিংবদন্তি গ্রেস ৬৬ বছর বয়সে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর অল্প দিনের মধ্যে পৃথিবীকেও বিদায় জানান তিনি (১৯১৫)। তবে ইতিহাসের পাতা থেকে বিদায় নেবার কোনো অবকাশ নেই। এখনও অমলিন হয়ে আছেন তিনি। গ্রেসের অসংখ্য রেকর্ড আজও অক্ষত। ১৮৪৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহন করেন গ্রেস। শুভ জন্মদিন ক্রিকেটের ‘পিতামহ’।

লেখাঃ নাসিম আহমদ

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা