শেষ ওভারে আরিফুল রোমাঞ্চে জয়ে শুরু সাকিবদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালের বিপক্ষে জয়ের জন্য শেষ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ২২ রান। এমন ‘কঠীন’ চ্যালেঞ্জেও জিতে গেছে খুলনা। বরিশালের বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে শেষ ওভারে চার ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জয়ের নায়ক আরিফুল হক। বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে বরিশালকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে খুলনা।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আগে ব্যাট করে পারভেজ হোসেনের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৫২ রান তুলে বরিশাল। জবাবে খেলতে নামা খুলনা শেষ ওভারে আরিফুলের ব্যাটিং ঝলকে চার  উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিয়েছে।

১৫৩ রানের টার্গেটে খেলতে নামা খুলনার শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। দলীয় ৪ রানেই হারায় প্রথম উইকেট। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই তাসকিনের শিকারে ফিরে যান ওপেনার বিজয়। ৩ বলের ইনিংসে একটি মাত্র বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো দলটি দলীয় ৩৬ রান তুলতেই হারায় চার উইকেট। দীর্ঘ এক বছর পর ব্যাট হাতে মাঠে নামা সাকিব চতুর্থ উইকেটে ফিরে যান ১৩ বলে ১৫ রান করে।

বরিশালের বোলারদের প্রতিরোধ গড়েন আরিফুল হক ও শামীম হোসেন। দলীয় ১২২ রানে শামীম ফিরে যান সাজঘরে। তার আগে তিন চার ও এক ছক্কায় ১৮ বলে ২৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অপর প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকেন আরিফুল হক। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২২ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ওভারের প্রথম তিনটি বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান আরিফুল। চতুর্থ বলে কোনো রান তুলতে পারেননি। পঞ্চম বলে চতুর্থ ছক্কা হাঁকিয়ে এক বল হাতে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৩৪ বলে দুই চার ও চার ছয়ে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

বরিশালের হয়ে তাসকিন ও সুমন ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়ে বসে বরিশাল। ওপেনিংয়ে নেমে মেহেদি হাসান মিরাজ ফিরে গেছেন ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে। রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম উইকেট হারানো দক্ষিণাঞ্চলের দলটি ৩৮ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। অধিনায়ক তামিম ফিরে যান ১৫ রান করেই।

পরবর্তীতে উইকেটে আসেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফেরান সাকিব আল হাসান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে প্রথম বলেই প্রত্যাবর্তনের উইকেট তুলে নেন এই তারকা। আফিফকে লেগ অঞ্চলের বাউন্ডারিতে জহুরুল ইসলাম অমির হাতে তালুবন্ধী করান সাকিব।

পরবর্তীতে দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার পারভেজ ইমন ও তৌহিদ হৃদয় ৩২ রানের জুটি গড়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ইমন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই দেখা পান ফিফটির। তবে ৪২ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রান করে ফিরে যান। এরপর ইরফান শুক্কুর এসে হাল ধরার চেষ্টা করলেও, পারেননি বেশি সময় ঠিকতে (১১)।

উইকেটে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন জুটি গড়ার চেষ্টা করে তৌহিদ হৃদয়ের সাথে। হৃদয়ের ২৫ বলে ২৭ ও অঙ্কনের ১০ বলে ২১ রানের ক্যামিও শেষে তাসকিনের ১১ রানের ছোট ক্যামিওতে দেড়শ পেরোতে পার করে বরিশাল। হৃদয় ও অঙ্কন দু’জনই ড্রেসিং রুমে ফিরেছিলেন। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫২ রান সংগ্রহ করতে পারে দলটি।

মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করে দলের সেরা বোলার শহিদুল ইসলাম। এছাড়া শফিউল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ ২টি করে উইকেট লাভ করেছেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০