শেষ দিনের লড়াইয়ের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম টেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ও উইন্ডিজের মধ্যকার চট্টগ্রাম টেস্ট এখন অপেক্ষায় শেষ দিনের লড়াইয়ের। চতুর্থ দিন শেষে এখন উইন্ডিজের ম্যাচ জিততে চাই ২৮৫ রান। অপরদিকে বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট। ক্যারিবিয়ানদের স্কোর ৩ উইকেটের বিনিময়ে ১১০ রান।  জয়ের জন্য সফরকারী ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিবে।

৮ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করার উইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৯৫ রান। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল সফরকারীরা। তবে হঠাৎ করেই বল হাতে মিরাজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে দলটি। দুই ওপেনার ক্যাম্পবেল (২৩), ব্রাথওয়েট (২০) ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মসেলেকে (১২) ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ শিবিরকে চিন্তামুক্ত করেন মিরাজ।

তবে ৫৯ রানেই দলের প্রথম ৩ ব্যাটসম্যানকে হারানো উইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়ায় দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটার বোনার এবং মায়ার্সের ব্যাটে। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতেই দিন পার করে দেয় ক্যারিবিয়ানরা। মায়ার্স ৫০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৭ এবং বোনার ৬৩ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত আছেন। দিন শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১০ রান।

এর আগে ৪৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সকালের সেশনে ব্যাট করতে নেমেছিলেন বাংলাদেশ দলের দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। কিন্তু টাইগার সমর্থকদের হতাশ করে দ্রুতই মুশফিককে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাকিম কর্নওয়াল। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান। অগত্যা ৪৮ বলে ১৮ রান করেই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। মুমিনুলের সাথে এই তারকা জুটি ভাঙে ৪০ রানেই।

পরবর্তীতে উইকেটে লিটন দাস আসলে, তাকে সঙ্গী করে উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মুমিনুল। তাদের দু’জনের ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সকালের সেশনটা নিজেদের করে নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও দুর্দান্ত হয় স্বাগতিকদের। দ্রুতই ফিফটি তুলে নেন লিটন দাস। মুমিনুল হক পূরণ করেন সেঞ্চুরি।

কর্নওয়ালের বিপক্ষে অফ সাইড ফ্লাইট শটে লিটন দাসের সাথে প্রান্ত বদল করেই মুমিনুল উদযাপনে মাতেন। রেকর্ড বইয়ে তোলপাড় তুলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি পূরণ হয়েছে এই ব্যাটসম্যানের। মুমিনুলের সেঞ্চুরির আগে নিজের ফিফটি পূরণ করেছেন লিটন দাস। এই তারকা নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটির দেখা পেয়েছেন।

তবে ফিফটি পেয়েই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে যান তিনি। আর এতেই উইকেট দিয়ে আসেন ওয়ারিক্যানের বলে। তবে এর আগে ১১২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে খেলেছেন ৬৯ রানের দারুণ এক কার্যকরী ইনিংস। ভেঙে যায় মুমিনুলের সাথে ১৩৩ রানের অসাধারণ এক জুটি।

দ্রুতই ফিরে যান মুমিনুল হকও। ১৮২ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ১১৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন মুমিনুল। অধিনায়কের বিদায়ের পরই ওয়ারিক্যানের এক ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ (৭) ও তাইজুল ইসলামের (৩) উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। আর এরপরই ৮ উইকেটে ২২৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ফেলে মুমিনুল হকের দল।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা