সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণের তিন দশকের সঙ্গীর ‘বর্ণিল’ বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নি‍:সন্দেহে তিনি সিলেটের বর্তমান সময়কার সেরা আম্পায়ার। সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণের উত্থাত-পতনের সাক্ষী। মোহামেডান-জিমখানা বা বড় দলের প্রতিদ্বন্দ্বীতা মূলক ম্যাচ মানেই উইকেটের এক প্রান্তে অনফিল্ড আম্পায়ার তিনি। চাইলে আরো কয়েক বছর থাকতে পারতেন মাঠে, তবে মান-অভিমানে মাঠে থাকতে চাইলেন না। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের আগেই জানিয়ে ছিলেন তিনি আর চিরচেনা বাইশ গজে পা ফেলবেন না। তিনি সিলেটের কৃতী আম্পায়ার আশরাফ আরমান।

ক্রিকেট মাঠের বাইরে থেকেই বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তবে শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার্স এসােসিয়েশনের কর্তাদের অনুরোধে মাঠ থেকেই আম্পায়ারিং পেশাকে বিদায় জানালেন আশরাফ আরমান। বিদায় বেলায় সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, অশ্রু সজল হয়েছেন অনেকেই। সিলেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন, সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন বর্ণিল আয়োজনে বিদায় জানিয়েছে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক থেকে সিলেটের ক্রিকেটের সঙ্গী হয়ে থাকা এই আম্পায়ারকে। ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বাইশ গজের দুই পাশকে বিদায় জানিয়েছেন আশরাফ আরমান।

শনিবার সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে সবার অনুরোধ রাখতে গিয়ে মিনিট দশেক আম্পায়ারিং করেন আশরাফ আরমান। অনির্বান ক্রীড়া চক্র ও ইয়ং প্যাগাসাসের ম্যাচ দিয়েই বিদায় জানালেন রক্তে মিশে যাওয়া আম্পায়ারিং পেশাকে। চাইলেই হয়তো ভুলে থাকতে পারবেন না, যে বাইশ গজে মিতালী গড়েছেন প্রায় তিন দশক, সেই বাইশ গজকে কি আর সহজে ভুলতে পারবেন? বিদায়ের ‘সঠিক’ সময় হয়তো হয়নি। ক্রিকেট মাঠে এখনো তার সিদ্ধান্তে নাখোশ হওয়ার ঘটনা বিরল। অন্যদের চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপরের দিকেই থাকতেন, তবে তিনি আর থাকতে চাইলেন না মাঠে। মাঠের বাইরে বসেই হয়তো সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনকে রঙিন হাওয়ায় উড়তে দেখবেন।

সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণে জড়িয়ে আছে এই কৃতী আম্পায়ারের পরিবারের হাজারো স্মৃতি। তার ছোট ভাই মারুফ হাসান ছিলেন সুনামধন্য কোচ। প্রবাসী হওয়ার আগ পর্যন্ত বিসিবির জেলা কোচের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাদের পুরো পরিবারটাই ছিলো ক্রিকেটমনা। দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির এই শহরের ক্রিকেটের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন না হওয়ার, ভুলে না যাওয়ার। ভালো থাকবেন আম্পায়ার আশরাফ আরমান।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০