সিলেট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের চ্যাম্পিয়ন সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পর্দা নামল ক্রিকেটের মিলন মেলার। জমে উঠা ফাইনালে কুশিয়ারা রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে সিলেট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ২০২১’র চ্যাম্পিয়ন হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স। শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মহারণে ওয়ারিয়র্সদের জয়টা ২৪ রানের। প্রত্যাশার পারদ মিটিয়ে মেয়র আরিফুলকে আনন্দে ভাসিয়েছে জাকির হাসানের নেতৃত্বাধীন দল। ডাগআউটে যেখানে মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকায় ছিলেন নাঈম সালেহ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারূণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স। ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ওপেনার এজাজকে (১৯ বলে ১৫ রান) হারায় দলটি। এরপর দলীয় ৪৮ রানে ২৪ রান করা আরেক ওপেনার রিজভিও ফিরে যান। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় ওয়ারিয়র্স শিবির। তবে অধিনায়ক জাকির হাসান ও শাহনুরের তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি ওয়ারিয়র্স শিবিরকে ম্যাচে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়।

কিন্তু সেই অবস্থান থেকে বেশি সুবিধা নিতে পারেনি মেয়র আরিফুল হকের দলটি। জাকির এবং শাহনুর দু’জনই ২৯ রান করে আউট হওয়ার পর শেষদিকে দলের হাল ধরতে পারেননি কেউই। দ্রুত গতিতে রান তুলতে না পারায় স্কোরও বেশিদূর যায়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি ওয়ারিয়র্স শিবির।

কুশিয়ারা রয়্যালসের হয়ে ১৯ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার মাহবুব। এছাড়া ২৮ রানে ২টি উইকেট লাভ করেন মুক্তার আলি।

১৩৬ রানের মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ধীর গতির ব্যাটিং কর‍তে থাকে কুশিয়ারা রয়্যালস। ম্যাচের শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপেও পড়ে দলটি। অতিরিক্ত ডট বল খেলার সেই চাপ থেকে আর বেরোতে পারেনি ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার দল। একদিকে বল কমতে থাকে, অপরদিকে বাড়তে থাকে রানের সংখ্যা।

শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মাহমুদ ইমনের শিষ্যরা। ফলশ্রুতিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানের বেশি করতে পারেনি রয়্যালস শিবির। সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৩৪ রান করেন অধিনায়ক তান্না। এছাড়া ৩০ বলে ২৩ রান করেন ওপেনার সিয়াম। আল আমিন জুনিয়র ১২ করলে, অধিক ডট বল খেলে দলের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ান।

সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্সের হয়ে ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার জয়নুল। এছাড়া ফরহাদ রেজা ৩০ রানে ২টি এবং আজাদ কিপটেমি বোলিংয়ে মাত্র ৯ রান খরচ করে ১টি উইকেট লাভ করেন।

ফাইনাল সেরা হয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের অধিনায়ক জাকির হাসান। এছাড়া একই দল থেকে রিজভি টুর্নামেন্ট সেরা এবং জয়নুল সেরা বোলার হয়েছেন। স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্সের তোফায়েল হয়েছেন টুর্নামেন্টের উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরষ্কার জিতেছেন।

এরই মধ্য দিয়ে পর্দা নামল সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত সিলেট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট-২০২১’র উদ্বোধনী আসরের। ১৩ দিনের ক্রিকেটের মিলনমেলায় অংশ নিয়েছিল পাঁচটি দল। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্স, সিলেট ইউনাইটেড ও এমকেবি প্লাটুন। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবক’টিতেই হেরে শুরুতেই বাতিলের খাতায় নাম লেখায় এমকেবি।

গ্রুপ পর্বে টানা চার ম্যাচের সবক’টি জিতে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে সিলেট ইউনাইটেড। দুই জয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের দুই নম্বরে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্স। সমান পয়েন্ট থাকলেও, রান রেটে পয়েন্ট টেবিলের তিন ও চার নম্বরে থেকে যথাক্রমে সিটি কর্পোরেশন এবং কুশিয়ারা রয়্যালস সেমিফাইনালে উঠেছিল।

ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার কুশিয়ারা রয়্যালস প্রথম সেমিফাইনালে স্টার প্যাসিফিককে হারিয়ে উত্তীর্ণ হয় ফাইনালে। অপরদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জাকির হাসানের নেতৃত্বাধীন সিসিক ওয়ারিয়র্স গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকা সিলেট ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে। সিসিক এবং কুশিয়ারার মধ্যকার ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা আজ ঘরে তুলে নিল সিটি কর্পোরেশন।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরি, বিসিবি পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরি নাদেল এবং সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি অপারেশন্স ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা