সিলেট সিক্সার্সে ‘কদর’ নেই সিলেটিদের

তানজীল শাহরিয়ার অলী, অতিথি লেখক:: বেশ আড়ম্বর করেই যাত্রা শুরু করেছিলো সিলেট সিক্সার্স। সিলেটের মালিকানায় বিপিএল otete-lekokআসরে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে সিলেট সিক্সার্সই প্রথম নাম লিখায়। সম্পূর্ণ সিলেটি মালিকানা, মাঝের এক আসরে না থাকার পর আবার বিপিএল-এ সিলেট এর নাম যুক্ত হওয়া। সব মিলিয়ে সিলেটবাসীর প্রত্যাশার বেলুন ক্রমেই স্ফীত হতে শুরু করেছিলো।

সিলেটে জমকালো আয়োজন করে ফ্রাঞ্চাইজির ঘোষণা, সাব্বির-নাসিরদের দলে অন্তর্ভুক্তি। এসব দেখে সিলেটিরা উল্লসিত হয়েছিলো ব্যাপকভাবে।

তবে, শুরুর সেই উচ্ছাস ক্রমেই মিলিয়ে যেতে আরম্ভ করে। সিলেট মাঝারি মানের কয়েকজন বিদেশি, আর, দেশের অধারাবাহিক কয়েকজন ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ায়। দর্শকদের প্রত্যাশার বেলুন ধীরে ধীরে চুপসে যেতে আরম্ভ করে তখন থেকেই।

সিলেটের ক্oli-viরিকেটার অলক কাপালি, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, জাকির হাসান, খালেদ আহমদকে সিলেট সিক্সার্স দলে নেয়নি দেখে ক্রিকেটপ্রেমি দর্শকের আক্ষেপ ছিলো। রাহি, জাকিরদের পারফরম্যান্স সেই আক্ষেপ কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অলক কাপালির অভিজ্ঞতার অভাব টের পাচ্ছে হাড়ে হাড়ে।

এতকিছুর পরেও শুরুটা হয়েছিলো দুর্দান্ত। প্রথম পর্বের খেলাগুলো সিলেট ভেন্যুতে হওয়ায় স্বাগতিক হবার সুবাদে, আর, গ্যালারিভরা দর্শকের গর্জনে সিলেট চার ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নেয়। আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করা সিলেটের এমন পারফরম্যান্স অনেকের কাছেই চমক হয়ে এসেছিলো।

ঢাকা এবং চট্টগ্রাম পর্বে আর সেই ফর্ম ধরে রাখতে পারেনি সিলেট। ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেই চলেছে। কোনো ম্যাচেই তেমন প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুলতে পারেনি। যা সিলেটবাসীকে হতাশ করেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে স্কোয়াডে থাকা সিলেটি ক্রিকেটার নাবিল এবং তান্নার নিয়মিতই দলের বাইরে থাকা।

নাবিল সামাদ একটি ম্যাচ খেলেছেন। পারফরম্যান্স ছিলো সন্তোষজনক। কিন্তু, এরপরেও তাকে বসিয়ে রেখে খেলানো হচ্ছে শুভাগত হোম কে, সর্বশেষ ম্যাচে চারজন পেইস বোলার নিয়ে খেলেছে সিলেট। মরা উইকেটে চার পেইসার কোনো সুবিধা করতে পারেননি। সিকান্দার রাজা, ভন জিলেরা তুলোধুনা করেছেন সিলেটের বোলিং কে। তাইজুল ইসলামের কাছ থেকেও আশানুরূপ পারফরম্যান্স পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরেও দলে সুযোগ পাচ্ছেন না নাবিল। অথচ, নাবিল সামাদ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা উইকেট শিকারীদের তালিকায় থাকা একজন। টি-২০ এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর বোলিং কার্যকারিতা নিয়ে ক্রিকেটবোদ্ধারা নিয়মিতই প্রশংসা করে থাকেন।

এবারের আগে কুমিল্লা, খুলনা, চট্টগ্রামের হয়ে বিপিএল-এ নিয়মিতই ম্যাচ খেলেছেন নাবিল। এমনকি ১ম ওভার থেকেই বোলিং শুরু করেছেন। নিজের ঘরের দলের কাছ থেকেই উপেক্ষার শিকার হতে হচ্ছে তাকে।

নাবিল তবু এক ম্যাচ খেলেছেন। ইমতিয়াজ হোসেন তান্না’র সেই সুযোগটা এখনো হয়নি। বর্তমানে দেশে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ব্যাটসম্যানের অন্যতম তান্না। গত দুই মৌসুমের ঢাকা লিগের সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় ছিলেন তান্না। বাংলাদেশ এ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর করে এসেছেন। সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করছেন এই মৌসুমে। কিন্তু, এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান কে এখনো মাঠেই নামায়নি সিলেট সিক্সার্স। দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও আহামরি কিছু নয়। সাব্বির রান পাচ্ছেন না। শুভাগত মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিদেশিরাও ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে পারছেন না। তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট তান্না কে কোনো ম্যাচে বাজিয়ে দেখার সুযোগটা নেয়নি।

অথচ বিপিএল শুরুর আগে দলটির কর্মকর্তারা বারবার বলে ছিলেন সিলেটের দল হবে স্থানীয়দের নিয়ে। সিলেটি খেলোয়াড়রাই প্রাধান্য পাবেন দলে। সিক্সার্স কর্মকর্তারা হয়তো তাদের সেই কথা ভুলে গেছেন। যেনো তারা চিনছেনই না সিলেটি ক্রিকেটারদের।

সিলেটের মালিকানায় বিপিএল এর ৫ম আসরে সিলেট এর ফ্রাঞ্চাইজি পাওয়ার যে আনন্দ উচ্ছাস ছিলো। ভারসাম্যহীন দল গঠন, স্থানীয় ক্রিকেটারদের উপেক্ষা আর অব্যবস্থাপনার কারণে সেই উচ্ছ্বাসের তাল কেটে গেছে অনেক আগেই। পয়েন্ট টেবিলে ক্রমেই নিচের দিকে নামতে থাকা সিলেট সিক্সার্স সাত দলের মধ্যে ৭ম হয়ে বিপিএল শেষ করে কি না সিলেটবাসীরা এখন সেই শঙ্কায়।

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির এমন ফারাক সিলেটবাসীর মনে আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে। শেষ তিন ম্যাচ জিতলে সেই আক্ষেপের মাত্রা হ্রাস পাবে কি না সে প্রশ্নের উত্তর তোলা থাক সময়ের কাছেই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অলে/০০