সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে জেতালেন জ্যোতি

ছবি- বিসিবি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং নারী দলকে দুইশো’র মধ্যে আটকান বোলাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকান বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগ্রেস অধিনায়কের ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা উড়ে গেছে ৭ উইকেটে।

লাক্কারতুরার নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে ১৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতার দেখা মিলে। বাউন্ডারির চেয়ে দ্রুত এক এবং দুই রান তোলায় পারদর্শীতা দেখাতে থাকেন। এতে নিজেদের লক্ষ্যটাকেও সহজ করে ফেলেছেন বাংলার নারীরা। তবে এর মাঝেও দলীয় ১৬ রানে শামীমা সুলতানা (৭) এবং ৩৮ রানের মাথায় মুর্শিদা খাতুনকে (২১) হারিয়ে ফেলে টাইগ্রেসরা।

তবে তৃতীয় উইকেটে ফারজানা হকের সাথে ৪৪ রানের একটি জুটি গড়ে দলের হাল শক্ত করে ধরেন অধিনায়ক জ্যোতি। সেই জুটি ভেঙে ব্যক্তিগত ১৫ রান করে ফারজানা প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে, উইকেটে আসেন রুমানা আহমেদ। এরপরই বাংলাদেশের ওয়ানডে দলপতির সাথে জমে ওঠে ইমার্জিং দলপতির জুটি।

দুজনের দৃঢ়ময় ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হতে থাকে প্রোটিয়া শিবির। দলের বোলারদের হতাশা উপহার দিয়ে দারুণভাবে ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন তারা। শেষ পর্যন্ত জ্যোতি-রুমানার অবিচ্ছিন্ন ১১৫ রানের জুটিতে ২৭ বল আর ৭ উইকেট বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

জয়ের আগমূহুর্তে বাংলাদেশ দলপতি পূরণ করেন নিজের ইমার্জিং ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ম্যাচে প্রথম শতক।  ১৩৪ বলে ১১ চারের মারে ১০১ রানের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। উইকেটের অপর প্রান্তে রুমানাও দারুণ ইনিংস খেলে দলের উইকেট আগলে রেখেছেন। ফিফটির আক্ষেপে ৬৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের হয়ে খায়াকাজি, অ্যান্ড্রিওস ও অ্যানেকে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা আগের ম্যাচের চেয়ে আরো ভালো শুরু করে এদিন। প্রথম ওয়ানডেতে এন্ড্রি স্টেইন ও রবিন শিরলে প্রথম উইকেটে করেছিলেন ৪১, আজ করছেন ৫৭ রান। আগের ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকা রিতু মনি প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন। শিরলেকে ফেরান শামিমা সুলতানার ক্যাচে। ব্যক্তিগত ১৯ রানে ফেরেন ২ চার হাঁকানো শিরলে। পরের উইকেটও রিতু মনির।

একাদশে সুযোগ পাওয়া প্রোটিয়া ক্রিকেটার নন্দিমিসো শাঙ্গাজেকে ৪ রানে ফেরান তিনি। এরপর বাংলাদেশকে আরেক উইকেট এনে দেন নাহিদা আক্তার। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরের পথ ধরতে হয় ক্রিস্টি থমসনকে। ৫৭ রানের প্রথম উইকেট জুটি পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা তখন পরিণত হয় ৩ উইকেটে ৬৮ রানের দলে। এরপর স্টেইন-অ্যানেকে বোস জুটি মিলে সফরকারীদের এগিয়ে নিচ্ছিলেন। দারুণ জমেও উঠেছিল তাদের জুটি, যা স্বাগতিকদের জন্য ছিল ভয়ের কারণ। সাবলীলভাবে রান তুলছিলেন এই দুই ব্যাটার।

৩৯ তম ওভারে এসে গলার কাটা হয়ে বিধে থাকা স্টেইনকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান সালমা। ১১৮ বলে ৭ চারে ৮০ রান করেন স্টেইন। এই উইকেটে ভাঙে ৭৮ রানের ৪র্থ উইকেট জুটি। অ্যানেকে ফেরার আগে করেন মূল্যবান ৪২ রান। নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৬ রান।

বাংলাদেশের হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিতু মনি ও নাহিদা আক্তার।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা/১১০