হাজারের মাইলফলক ছুঁতে চান আব্দুর রাজ্জাক

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কাল মাঠে নামছে আব্দুর রাজ্জাকের প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন। শিরোপা ধরে রাখা এবং নিজের লক্ষ্যের কথা একান্তে জানিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। ছবি তুলেছেন: অনির্বাণ সেনগুপ্ত।

৩৬’র কোটা ছাড়িয়ে যাওয়ার দিন শতক পেরিয়েছে। আগামি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সংখ্যাটা ৩৭’এ দাঁড়াবে। তাতে কি এটি তো একটি সংখ্যাই। ফুটবলে রজার মিলা ক্রিকেটে মিসবাহ-উল-হক দেখিয়েছেন বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা। পারফর্ম করতে থাকলেও আপনার উপর কেউ চোখ রাঙাতেই পারবেনা। আব্দুর রাজ্জাকও ব্যতিক্রম কোথায়। বিসিএলে টানা অধিনায়কত্ব করছেন। আগামিকাল থেকে শুরু হবে নতুন মৌসুম। শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তো আছে সেই সাথে নিজেকে ফিট রেখে আরো বেশি ক্রিকেটে মনোযোগ হওয়ার চ্যালেঞ্জ এই দুই মিলিয়ে কথা বলেছেন এসএনপিস্পোর্টসের সঙ্গে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এই বোলারের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামছুল হক মিলাদ:

এসএনপিস্পোর্টস: আমাদের লঙ্গার ভার্সনকে এক সময় বলা হতো পিকনিক ক্রিকেট। তখন শুধু এনসিএল হতো এখন বিসিএল নিয়মিত। পিকনিক ক্রিকেটের আমেজটা কি এখন আর আছে?

আব্দুর রাজ্জাক: পিকনিক বলাটা আসলে ঠিক না। এটি আমার প্রফেশন। এই ক্রিকেটকে নিচে নামাতে নামাতে এমন অবস্থার তৈরী হয়েছিল। কিন্তু হ্যাঁ, এখন অনেক কিছু পরিবর্তন এসেছে। আমি এটাকে পিকনিক বলতে ‘নাকোচ’ করি। কারণ এখানেই আমাদের মূল লড়াইটা হয়ে থাকে।

একটা সময় ছিল যখন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেভাবে উন্নত ছিল না। আমাদের প্রতিদিনকার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫০ টাকার মতো। তখন একটা ক্রিকেটার কি খাবে কিভাবে চলবে তার কোন হদিস ছিল না। কিন্তু এখন আর এমনটা নেই। এখন ম্যাচ ফি আছে, ভালো মানের হোটেল আছে। আমরা ভালো ড্রেসিংরুম পাচ্ছি, জিম পাচ্ছি সব মিলিয়ে আগের ক্রিকেট আর এখনকার ক্রিকেটে পার্থক্য আছে। উইকেটগুলোও ভালো তৈরী হচ্ছে। একই সময়ে গুরুত্বর একটি ব্যাপার ছিল। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে কেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আগের সময়ের চেয়ে এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো পরিবর্তন আসবে নতুন কিছু যুক্ত হবে।

এসএনপিস্পোর্টস: বিসিএলে দুই বিভাগ মিলে একটি দল গড়া হতো তখন দেখা যেত যে একটি দল বেশি শক্তিশালী আবার আরেকটি দল দুর্বল। শক্তিশালী দলের মধ্যেও অনেক খেলোয়াড় জায়গা হারাতেন। ড্রাফট কি নতুন কিছু নিয়ে এলো এই ক্রিকেটে?

আব্দুর রাজ্জাক: ড্রাফট সবসময় যে ভালো আমি এটি বলব না। কারণ একজন খেলোয়াড়ের সেট আপের বিষয় আছে। এমন অনেক সময় আছে যে কোন ক্রিকেটার কোন দলে খেলবে সেটি সে জানেনা। সেক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে বিসিএলের ক্ষেত্রে ড্রাফটকে আমি স্বাগত বলবো। কারণ, এখানে আগে হতে যে দুটি বিভাগকে এক করে একটি দল গড়ে দেয়া হতো। তাতে হতো কি একটা দলে দেখা যেত একটি জায়গার জন্য ৪-৫জন ব্যাকআপ খেলোয়াড় থাকতো। আবার কোন দলে একজনও নেই। যে দলে বেশি খেলোয়াড় তাদের ২-৩জনকে বসে থাকতে হতো। কিন্তু এখন এটা হবে না সবাই সুযোগ পাবে এটা একদিক থেকে ভালো।

তবে দুই বিভাগের খেলোয়াড়দের নিয়ে যেটি হতো সেটিকেও আমি ভালো বলবো। কারণ এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যে তার লক্ষ্য থাকে সে এই দলে খেলবে। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের বসিয়ে না রেখে অন্য দলে খেলতে পাঠানোও অনেক বড় বিষয়।

এসএনপিস্পোর্টস: বিগত পাঁচ বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনি নিয়মিত। জাতীয় দলের বাইরে থাকার কারণে প্রায় সব ম্যাচ খেলছেন তরুণদের সাথে আপনার বোঝা পড়াটা কেমন?

আব্দুর রাজ্জাক: মাঠের বাইরে টিম ওয়ার্ক ছাড়া সবার সাথে খুব একটা মেশা হয়না। তবে যখন টিমের মিটিং হয় প্র্যাকটিস হয় সবাই একসাথে থাকি। আল্লাহর রহমতে সবার সাথে আমার ভালো বোঝা পড়া রয়েছে।

এসএনপিস্পোর্টস: চলতি বছরের শুরুতে ৫০০ উইকেট তুলেছেন বর্তমানে প্রায় ৫৫০’র কাছে আছেন এই মৌসুমেই কি ৬০০ পূরণ করতে চান?

আব্দুর রাজ্জাক: এর উত্তর আসলে আমার কাছে নেই। যদি আমি এরকম টার্গেট করে খেলতে নামি আমার কাছে মনে হয় যে আমি একটু স্বার্থপর হয়ে ক্রিকেট খেলছি। তবে মাঠে নামার পর আমি দলের সাথে অবদান রাখতে চাই। যদি অবদান রাখতে না পারি তাহলে আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। একটু সময়ের জন্য হলেও ভালো থাকতে পারি না। ৬০০ পূরণ করার কথা বলবো না তবে দলের সাথে থাকলে অবশ্যেই দিনশেষে আমার একটা পজিশন থাকবে। তখন হয়তো অনেক কিছু আমার পক্ষে আসবে।

এসএনপিস্পোর্টস: বিসিএলের গত মৌসুমে আপনার ৪৩ উইকেট এখন পর্যন্ত এক মৌসুমে সর্বোচ্চ। উইকেটের হাফ-সেঞ্চুরি করতে চান না?

আব্দুর রাজ্জাক: ইচ্ছে’তো সবারই থাকে। তবে বললাম না টার্গেট করে খেলতে নামলে আমার কাছে একটু স্বার্থপর হয়ে খেলছি মনে হয়। দলের সাথে অবদান রাখলে একটা পর্যায়ে অবস্থান তৈরী হয়। আমার চেষ্টা থাকে সবসময় পুরনো সাফল্যেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। বিসিএল ২-৩ মৌসুম ছাড়া আমি সবসময়ই আল্লাহর রহমতে উপরে ছিলাম। সুতরাং, ঐ ধারাটা ধরে রাখতে চাই।

এসএনপিস্পোর্টস:সাব-কন্টিনেন্টে রঙ্গনা হেরাথের পর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১ হাজার উইকেট নেই কারো। আরো ৪-৫ মৌসুম খেললে কোথায় দেখতে চান নিজেকে শেষ বেলায়?

আব্দুর রাজ্জাক: আসলে আমি পরিসংখ্যান নিয়ে এতোটা ঘাঁটাঘাঁটি করি না। আপনি বললেন এখান থেকেই শোনলাম। আসলে লক্ষ্য রেখে বলতে চাই না যে আমিও ঐ তালিকায় থাকতে চাই কিংবা ১ হাজার উইকেট চাই। কিংবা উইকেট না পেলে আমি খুব হতাশ হব কিংবা আমার ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা থেকে গেলো।

যেহেতু সামনে আরো অনেক দিন খেলবো। সুযোগ আছে সেক্ষেত্রে আমি এগিয়ে যেতে চাই দেখি কতদূর যেতে পারি। আমি বলছি না যে আমাকে ১ হাজার উইকেট পেতেই হবে। আরো কয়েকটি মৌসুম খেলার জন্য আমার শারিরীক সুস্থতাও প্রয়োজন। যদি আমি সুস্থ থাকি তাহলে লক্ষ্য এগিয়ে যাব। যদি তা পূরণ না হয় তাতে আমার কোন ক্ষতিও নেই। সবকিছুর আগে খেলার জন্য আমার সুস্থতা প্রয়োজন।

এসএনপিস্পোর্টস: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য কি?

আব্দুর রাজ্জাক: বিসিএলের শুরু থেকেই আমি অধিনায়কত্ব করছি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছি বেশ কয়েকবার। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ভালো লাগে। কিন্তু এমন না যে চ্যাম্পিয়ন হলে অনেক উপরে উঠে যাওয়া যায় ইত্যাদি…ইত্যাদি। চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা শুধু এতটুকু কাজে দেয় যে পরিবর্তি মৌসুম শুরু হতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি বা আমরা এক নম্বর এতটুকুই। এই জিনিসটা একটা আলাদা ভালো লাগায়। এখানে সব দলের সুযোগই সমান। কোন দলই ১৯ কিংবা ২০ নয়। সবাই ২০ এ ২০। কেউ কেউ এর চেয়ে একটু বা বেশি।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১০৪