৩১ ছক্কার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ রানে হারাল নিউজিল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্কঃ সাদা বলে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ মানেই শেষ মূহুর্তের রোমাঞ্চ। সবশেষ ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই কিউইদের নামের পাশে এই তকমা যোগ হয়েছে। আরও একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিল কেন উইলিয়ামসনরা। তবে পার্শ্ববর্তী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বিজয়ের হাসি হেসেই মাঠ ছেড়েছে দলটি। ৩১ ছক্কা আর ৪৩৪ রানের ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের জয়টা ৪ রানের। যেখানে ব্যাটে-বলে ম্যাচের মূল নায়ক জিমি নিশাম! এতে করে ২-০’তে সিরিজে লিড নিল স্বাগতিকরা।

ডানেডিনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ২০ রানে ওপেনার টিম সেইফার্টকে (৩) হারানোর পর, আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে উঠা ১৩১ রানের জুটিই দলের সংগ্রহ বড় করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখে।

তবে রানখরায় ভুগতে থেকে গাপটিল ৫০ বলে ৮ ছক্কা ও ৬ চারে ৯৭ রানের বিধ্বংসী খেলে এবং ৩৫ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে উইলিয়ামসন আউট হলে বিপত্তি বাঁধে। আদৌও দুইশ পার করতে পারবে তো স্বাগতিকরা সেই শঙ্কা উঠেছিল। তবে চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা জিমি নিশামের ১৬ বলে ৬ ছক্কা ও ১ চারে ৪৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস সেই শঙ্কাকে দূরে ঠেলে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার কেন রিচার্ডসন। ৩৯ রানে ১টি উইকেট নেন ঝাই রিচার্ডসন।

২২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রান তুললেও, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল অজিরা। ১৩ ওভারে সফরকারী দলটির রান সংখ্যা যখন ১১৩, ততক্ষণে ৬টি উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। মিচেল স্যান্টনারের বাঁহাতি স্পিনে ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার। ব্যতিক্রম থেকে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান জশ ফিলিপস ৩ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে তাকেও ফেরান সেই স্যান্টনার।

কিন্তু, ম্যাচের থ্রিলার তখনও বাকি। উইকেটে আছেন মার্কোস স্টোয়নিস এবং ড্যানিয়েল স্যামস। শুরু করেন প্রতিরোধ। চার-ছক্কার ফুলঝরিতে বলগুলো একের পর এক বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন। তাদের ব্যাটিং তাণ্ডবে একটা সময় জয়ের বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। উইকেটে থাকা দু’জনের ব্যাটিং দেখে এটি মামুলি বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে সব হিসাব নিমিষেই পাল্টে দিয়েছেন জিমি নিশাম শেষ ওভার বল করতে এসে। দলের শেষ ওভার হলেও, নিশামের ছিল এটি প্রথম ওভার। উইলিয়ামসনের সিদ্ধান্তের কার্যকরিতা বল হাতে দেখিয়ে দেন নিশাম। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ভেঙে দেন স্টোয়নিস ও স্যামসের ৩৭ বলে ৯২ রানের বিধ্বংসী জুটি। ১৫ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা স্যামসকে ফেরান এই নিশাম। কিন্তু, স্টোয়নিস থাকায় তখনও আশা টিকে ছিল। মাঝের দুই বল ডট দিয়ে চতুর্থ বলে সেই স্টোয়নিস ছক্কা হাঁকান নিশামকে।

ম্যাচের উত্তেজনা যখন চরমে তখনই পঞ্চম বলে লং অনে টিম সাউদির হাতে স্টোয়নিসকে তালুবন্ধী করেন নিশাম। ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায় তখনই। তবে ৩৭ বলে প্রায় ২১১ স্ট্রাইক রেটে ৫ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারিতে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন স্টোয়নিস। শেষ বলে চার হাঁকিয়ে হারের ব্যবধানটা কেবল কমান ঝাই রিচার্ডসন। ৮ উইকেটে ২১৫ রানের বেশি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ ওভারে ৩১ রান খরচায় স্যান্টনার ৪টি এবং নিশাম ১ ওভারে ১০ রান খরচায় ২টি উইকেট লাভ করেন। ব্যাট হাতে ৯৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলা গাপটিল হয়েছেন ম্যাচসেরা ক্রিকেটার।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা