৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারলো গেইল, সাকিব-শান্তদের বরিশাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বঙ্গবন্ধু বিপিএলে জয় দিয়ে শুরু করা সাকিব আল হাসানের বরিশাল ঢাকা পর্ব শেষ করলো টানা দুই হারে। আগের দিন ঢাকার কাছে হেরে যাওয়া সাকিবের দল আজ মঙ্গলবার ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে।

মাত্র ১৫৯ রানের টার্গেট টপকাতে পারেননি সাকিব, গেইল, শান্ত-সোহানরা। অলআউট হয়েছে ৯৫ রানে। নাহিদুলের স্পিন ঘূর্ণিতে ১৭.৩ ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হয় বরিশালের ব্যাটিং। বরিশালের: লক্ষ্যটা বেশি বড় ছিরো না। মিরপুরে রাতের ম্যাচে দেড়শো উর্ধ্ব ইনিংস হচ্ছে। আগে ব্যাট করা কুমিল্লা ৭ উইকেটে ১৫৮ রান তুলেছে। জবাবে খেলতে নামা বরিশাল শুরুতেই ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। দলীয় ৭ রানের আগেই দু’টি উইকেট হারিয়েছে দলটি।

ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে শুন্য রানে সৈকত আলী ফিরেন সাজঘরে। আরেক ওপেনার শান্তকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসা সাকিব আল হাসানও ফিরলেন দ্রুত। ইনিংসের ৩য় ওভারের চতুর্থ বলে নাহিদুলের শিকার হয়ে বরিশালের অধিনায়ক ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১ রানে।

ওপেনার শান্ত ধীরলয়ে ব্যাট চালাতে থাকেন। টি-২০ ফরম্যাটের ম্যাচ সেটাই হয়তো তিনি ভুলে গিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রান করে আউট হয়েছেন শেষ ব্যাটার হিসেবে। ৪৭ বলের ইনিংসে দু’টি চার হাঁকিয়ে ছিলেন। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে শেষ ব্যাটার হয়ে সাজঘরে ফিরলেও দলের হার এড়ানো দুরের কথা, ব্যবধানও কমাতে পারেননি তিনি।

তৃতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ২৭ রানের জুটি গড়েন শান্ত। দুই চার ও এক ছয়ে দ্রুত ব্যাট চালাতে থাকা হৃদয় ১৪ বলে ১৯ রান করে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে ফিরে যান সাজঘরে। এরপরই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে বরিশাল। ২ চারে ১৪ বলে ১৭ রান করা সোহান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে পারেননি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে নাহিদুল ৪ ওভারে ১ মেডেনে ৫ রানে ৩টি, করিম জান্নাত, তানভীর ও শহীদুলরা প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করেছে কুমিল্লা। যেখানে ব্যাট হাতে অবদান রেখেছেন একাদশে আসা মাহমুদুল হাসান জয়। অল্পের জন্য ফিফটি মিস করেছিলেন তিনি। এছাড়া শুরুতে ঝড় তুলেছিলেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট আর শেষে করিম জানাত।

স্পিন নির্ভর বরিশালের বিপক্ষে শুরু থেকেই ঝড় তুলেন কুমিল্লার দুই ওপেনার ডেলপোর্ট ও জয়। ৩.২ ওভারে দলীয় ৩৩ রানের মাথায় ভাঙে সেই উদ্বোধনী জুটি। অতি-আক্রমণাত্বক হয়ে খেলতে গিয়ে ডেলপোর্ট ফিরেন প্যাভিলিয়নে। এর আগে ১৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান। টপ অর্ডারের নামা ফাফ ডু প্লেসিস ১১ বলে ৬ রানের বেশি করতে পারেননি।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় ইমরুল কায়েসের বিদায়ে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে কুমিল্লার। এদিনে ১১ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করেন ইমরুল। পরবর্তীতে ৪৪ রানের জুটি গড়েন জয় ও মুমিনুল হক। জয়ের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। ৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দ্রুতই ফেরেন ওয়ানডেসুলভ ব্যাটিংয়ে ২৩ বলে ১৭ রান করা মুমিনুল। ব্যর্থ হন নাহিদুল ইসলাম (০), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনরা (৮)।

তবে শেষ দিকে ঝড়ো ইনিংস খেলেন করিম জানাত। এই আফগান ক্রিকেটারের ১৬ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে দেড়শ পার করে কুমিল্লার সংগ্রহ। ৫ বলে ৫ রান করে অপরাজিত থাকেন শহিদুল ইসলাম।

বরিশালের হয়ে ৩০ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করে ডোয়াইন ব্রাভো। সাকিব ২৫ রানে ২টি, লিনটট ১৮ রানে ও নাঈম ৩১ রানে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০