স্পোর্টস ডেস্ক:: কিংবদন্তী ফুটবলার, সিলেটের কৃতি সন্তান রণজিত দাস পরলোকগমন করেছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাবেক এই ফুটবল দলের অধিনায়ক দুই দেশেরই হকি দলেরও সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। পাকিস্তানদলে খেলা একমাত্র বাংলাদেশী স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জার্সিতেই আলো ছড়িয়েছেন।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট নগরের একটি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন কিংবদন্তী এই খেলোয়াড়। তার মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, চার কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন!
১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেটে জন্ম গ্রহণ করেন এই কিংবদন্তী। তার ক্রীড়া যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্রিকেট দিয়ে; ১৯৪৭-এ তিনি সিলেটের টাউণ ক্লাবের হয়ে ক্রীড়াঙ্গণে প্রবেশ করেন। এরপর একাধারে ফুটবল, হকিতেও সেরাদের সেরা হন। পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তান দলে খেলা একমাত্র ফুটবলার ছিলেন তিনি।
ক্রিকেট দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আসলে এক সময়ে ফুটবলের নেশা পেয়ে বসে তকে। ১৯৫৫ সালে তিনি ইস্পাহানী ক্লাবের গোলকিপার হিসেবে ঢাকার ফুটবল প্রথম বিভাগ ফুটবলের মধ্য দিয়ে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরে আজাদ স্পোটিং ক্লাবে অধিনায়কত্ব করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৫৮ সালে ঢাকা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাব। মোহামেডানের জার্সিতে ১৯৫৯ সালে আবারো লিগ ও আগা খান গোল্ড কাপ জয় করেন। তিনি কলকাতা মোহনবাগানের হয়েও খেলেছেন।
দেশ ভাগের আগে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত জেলা ও অঞ্চলের গর্বিত গোলরক্ষক ছিলেন। ফুটবল ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ফিল্ড হকি গোলকিপার। ১৯৫৯-ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে যোগ দিয়ে হকি খেলতে শুরু করেন, যেখানে তিনি ঢাকা প্রথম বিভাগ হকি লিগ (১৯৬৩ ও ১৯৬৫) জয়ের অন্যতম কারণ ছিলেন। ১৯৬৭-পুর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন এবং ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত হকি মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
রণজিদ দাস ২০০৭ সালে জাতীয ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। তার মৃত্যুতে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০































