নিজস্ব প্রতিবেদক: বিপিএলে আজ রাতের ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। সিলেটে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। হাতে ৬ উইকেট। ঢাকা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ক্রিজে সাব্বির রহমান। দুই পরীক্ষিত তারকাকে চেপে ধরেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলকে এনে দেন রোমাঞ্চকর এক জয়।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল ঢাকা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, সহজ জয়ের পথেই হাঁটছে তারা। কিন্তু কে জানতো, শেষদিকে কাটার মাস্টারের ভেলকিতে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের। লক্ষ্যে নেমে ওপেনিং জুটিতেই তারা তুলে নেয় ৫৪ রান। ২২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রান করে আউট হন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ১৮ বলে ৪ চারের মারে ২০ রান করে কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক মিঠুন ও সাইফ হাসান। দুজনের জুটিতে আসে ৫৩ রান। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারা সাইফ ২৪ বলে ১৫ রান করে দলীয় ১১১ রানে বিদায় নেন। এরপর শামীম হোসেনকে নিয়ে দলকে জয়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যান মিঠুন। হাঁকিয়ে নেন বিপিএল ইতিহাসে নিজের ১২তম ফিফটি। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে ঢাকার দরকার ছিল ২৫ রানের। এরপরই কাটার মাস্টারের ভেলকি।
১৮তম ওভারে আক্রমণে এসে মাত্র ২ রান দেন। তাকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ১০ বলে ১১ রান করা শামীম হোসেন। ১৯তম ওভারে ১৩ রান দিয়েছিলেন আকিফ জাভেদ। তাতে শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১০ রানের। কিন্তু সাব্বির কিংবা মিঠুন কেউই ঠিকঠাক মোস্তাফিজকে খেলতে পারলেন না। ৬ বলের মধ্যে দুই ডেলিভারিতে কোনো রানই বের করতে পারলেন না। বাকি ৪ বলে ৪ রান নিয়েছেন দৌড়ে। তাতে অপ্রত্যাশিত জয় তুলে নেয় রংপুর। ৩৮ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানের দারুণ এক অপরাজিত ইনিংস খেলার পরও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিঠুনকে। ৮ বলে ১ ছক্কা ও ১ চারের মারে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। রংপুরের হয়ে মোস্তাফিজ ছাড়াও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন খুশদিল শাহ।
এর আগে রংপুরের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মসৃণ হয়নি। ওপেনার কাইল মেয়ার্স ১১ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে কিপার মিঠুনের হাতে ধরা পড়েন। অন্য ওপেনার লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৬ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। দ্রুত দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে রংপুর। চাপ সামলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন ডেভিড মালান। ইংলিশ ব্যাটার ৩৩ বলে ৩৩ রান করে ইনিংসের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। তবে তাকে সঙ্গ দিতে আসা তাওহীদ হৃদয় রানের খাতা খুলতেই ব্যর্থ হন। জিয়াউর রহমানের বলে আবারও মিঠুনের গ্লাভসে বন্দি হন হৃদয়।
এরপর রংপুরের ইনিংসে গতি আনেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চার। শেষ দিকে খুশদিল শাহ ছিলেন আরও আগ্রাসী। ২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি হাঁকান ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। এই দুজনের জুটিতেই শেষ দিকে দ্রুত রান তোলে রংপুর। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৭ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত খাতায় যোগ হয় ৯ রান। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে রংপুর রাইডার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ রান।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডকম/নিপ্র/০০/১১০
































