এমন উৎসব বহু দিন দেখেনি বাংলাদেশ, মুগ্ধ ফুটবলের রানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মানুষের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস, এয়ারপোর্ট থেকে মতিঝিলের কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পেরুতে দুপুর পেরিয়ে রাত হলো। হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দু’পাশে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে বঙ্গ কন্যাদের। উৎচ্ছাস, উৎসব, আনন্দের এক মোহনীয় দিন কাটলো দেশের ফুটবল প্রেমীদের।

সোমবার থেকেই উৎসবের শুরুটা। নেপালকে হারিয়ে প্রথমবার সাফ জিতেছে বাংলাদেশ নারী দল। বাংলার নারী ফুটবলের সেরা অর্জন। এশিয়ার সেরা বাংলা মায়ের মেয়েরা। ছেলেরা দীর্ঘ উনিশ বছর ধরে যা অর্জন করতে পারেনি, বাংলার মেয়েরা সেটা করে ফেললো বছর দশকের মধ্যেই।

নানা সুযোগ-সুবিধা আর অভিজাতের অংশ হয়ে থাকা পুরুষ ফুটবলাররা দিন দিন দেশের মান ডুবিয়েছেন। সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত শুধু মাত্র পেট ভরে খাওয়ার আশায় ফুটবলে আসা মেয়েরাই দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ওড়ালেন লাল সবুজের পতাকা। দেশকে এনে দিলেন সেরা সাফল্য।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে রানী হলেন বাংলার মেয়েরা। এমন উৎসব, আনন্দতো তাদের ঘিরেই। সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর মুখী হাজার হাজার মানুষ। নেচে গেয়ে তারা ফুটবলের বিজয় উদযাপন করছেন। দুপুর ৩টার কিছু পর মেয়েরা বের হলেন এয়ারপোর্ট থেকে।

বাইরে তখন হাজারো বাংলার জনতা, অপেক্ষায় ফুলে ফুলে সাজানো ছাদখোলা বর্ণিল। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সানজিদা, সাবিনরা উঠলেন স্বপ্নের ছাদখোলা বাসে। দেশবাসী তাদের বরণ করে নিলো পরম ভালোবাসায়। উত্তরার এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হলে বিজয় মিছিল। ঢাকার রাজপথ ঘুরে ঘুরে বর্ণিল সন্ধ্যায় তা পৌঁছালো হোম অব ফুটবলে।

ঘন্টা কয়েকের স্বপ্ন যাত্রা নিজেকে সাবিনাদেরও বিশ্বাস হচ্ছিলো না। সারি সারি গাড়ি, হাজার হাজার মানুষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাদের। স্লোগানে মুখর রাজপথ। সামনে পেছনে গার্ড দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাইরেন বাজিয়ে এগিয়ে চলছে এশিয়ার ফুটবলের রানীরা। এমন উৎসব, আনন্দ বহু দিন দেখেনি বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে ফুটবলে একমাত্র সাফল্য পেয়েছিলো বাংলাদেশ। সেবার শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশ জাতীয় দল। পুরুষদের ওই একটি সাফল্যের পর বাংলার ফুটবল দিন দিন পেছনেই গেছে। হাল ধরে হারানো জৌলস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন মেয়েরা। সেই মেয়েরা এবার উড়ছেন বাংলার আকাশে। স্বপ্ন পূরণ করেছেন কোটি কোটি বাঙালীর।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০