ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে অসীমের

0
63
হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরষ্কার হাতে অসীম গোপ (সংগৃহীত ছবি)।

সাগর রায়ঃ বছর তিনেক আগে সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠ নেমেছিলেন। গেল বছর শুরু হওয়া বহুল কাঙ্খিত প্রিমিয়ার হকি লিগেও দল পাননি। যেখানে কিনা ছিল আবার কোটার মারপ্যাঁচও। লিগে খেলতে না পারায়, পরবর্তীতে বাদ পড়তে হয়েছে জাতীয় দল থেকেও। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে গভীর অন্ধকারই দেখতে পাচ্ছিলেন দেশের হকি তারকা অসীম গোপ।

জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এএইচএফ কাপ, এশিয়া গেমস বাছাই, এশিয়া কাপের মতো বড় আসরগুলো মিস করতে হয়েছে এই গোলরক্ষককে। তবে অসীমের ক্যারিয়ারে আঁধার শেষে আলোর মতোন করেই আগমন ঘটে হকি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এইসের তত্ত্বাবধানে হকি ফেডারেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয় হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাংলাদেশের।

আর সেখানেই নিজেকে নতুন করে ফিরে পান অসীম। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অনেক পরিশ্রম করেছেন। যার ফলও পেয়েছেন হাতেনাতেই। টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরষ্কার উঠেছে অসীমের হাতে। বিপ্লব, সাঈদ, জাহিদদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য নিজের করে নেন তিনি। এতকিছুর জন্য আয়োজক ও নিজ দল মেট্রো এক্সপ্রেসের মালিককে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে এসএনপিস্পোর্টসকে অসীম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার লক্ষ্য ছিল এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে হবে। আমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকসহ অন্যান্য খেলার বাইরে ছিলাম। আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এটি। ভালো কিছু করতে হবে। আমার জন্য বড় একটা অর্জন এই টুর্নামেন্ট সেরা গোলরক্ষক হওয়া। আমি এর জন্য আমাদের বরিশাল দলের মালিক রিয়াজুল ইসলাম শুভ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। এছাড়া তপন ভাই, কোচকে ধন্যবাদ। আমাকে যখন দলে নেন, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি তখন। সব ঠিকঠাক করার চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত, জানিনা কতটুকু করতে পেরেছি।’

‘আর টুর্নামেন্টের আয়োজকদেরও ধন্যবাদ দেব। কারণ হকির পুনর্জাগরণ এটা। এতো বড় পরিসরে, এভাবে ফ্লাড লাইটে নিয়মিত খেলা, ফ্র্যাঞ্চাইজিতে, হাইপ, মিডিয়া কাভারেজ… ধারণাও ছিল না এতকিছু। আশা করি নিয়মিত হবে এরকম টুর্নামেন্ট। দিনশেষে দেশের জন্য ভালো হবে।’

টুর্নামেন্ট শেষে সাফল্যের চুড়ায় থাকলেও, আসর শুরুর আগে খেলা নিয়েই অনিশ্চিয়তায় ছিলেন। কেননা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে নাম লেখানোর প্রথম শর্ত ছিল, বিপ টেস্টে উতরানো। দীর্ঘদিন ধরে খেলার বাহিরে থাকায় স্বাভাবিক এই নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন অসীম। মাত্র অল্প কিছুদিন সুযোগ পেয়েছেন হাতে। আর সেখানেই করেছেন বাজিমাত। বিপ টেস্টের সাফল্যে প্লেয়ার্স ড্রাফটে সরাসরি ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে নাম লেখান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই গোলরক্ষক।

ফিটনেস নিয়ে এসএনপিস্পোর্টসকে অসীম জানালেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১০/১৫ দিন আগে জানতে পারি, বিপ টেস্ট হবে। তখন শুধুমাত্র সাইন হয়েছে টুর্নামেন্টটা হবে। জানতে পারলাম এখানে ড্রাফট হবে। তবে ড্রাফটে নাম দেওয়ার আগে সবাইকে ফিটনেস পরীক্ষা করাতে হবে। তখন একটু চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সবকিছু যখন একটা স্টেজে চলে যায়, তখন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় নিজের মধ্যে। নিজে অনেক অনুশীলন করেছি, জিম করেছি, ফিজিক্যাল করেছি। অনেক শ্রম দিয়েছি নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। একটাই মাথায় ছিল আমাকে ভালো খেলতে হবে, কাম ব্যাক করতে হবে।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি এই লিগ খেলে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে তার। জাতীয় দলে পুনরায় ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অসীম। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে এখন কোচের উপর। অসীমের চোখও সেদিকেই। নিজের কাজটা করে রেখেছেন। এবার দলে ফিরতে পারবেন কিনা, সেটা ম্যানেজম্যান্টের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। জাতীয় হকি দলে নতুন কোচ আসবে, অসীমের আশা তিনি নিশ্চিয়ই সেই পারফম্যান্সের মূল্যায়ন করবেন।

এই প্রসঙ্গে অসীমের ভাষ্য, ‘জাতীয় দলের বিষয়ে অগ্রীম বলতে পারবো না আমি। কোচ এখনও নির্ধারণ হয়নি। কোচের চিন্তা-ধারা কি হবে সেটা আমি জানি না। তবে যারা হবেন তারা নিশ্চয়ই খেলা দেখবেন। যদি আমাকে ক্যাম্পে রাখা হয়, নির্বাচন করা হয়, আমি আমার শতভাগ উজাড় করে দেব। দলে বিবেচনা করা হলে আমার যা অভিজ্ঞতা আছে, সেটা দিয়ে খেলব। বাংলাদেশকে দিন শেষে ভালো একটা ফল এনে দিতে যা প্রয়োজন হয় করবো।’

তবে এতো কিছুর পরেও আক্ষেপ থেকে গেছে অসীমের। কেননা তার দল মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশাল সেরা হতে পারেনি আসরে। এলিমেনিটরে মোনার্ক পদ্মার কাছে হেরে ফাইনালে যাওয়া হয়নি আর। যদিও আশা করছেন ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।

বিকেএসপির সাবেক এই ছাত্র বলেন, ‘খারাপ লাগছে, তবে এটাও মানতে হবে খেলায় উত্থান-পতন থাকবেই। শুরু থেকেই ভালো করার চেষ্টা করেছি। দলের সবাই চেষ্টা করেছে। কিন্তু সবসময় সবার পক্ষে টানা পারফর্ম করে যাওয়া সম্ভব না। অনেক সময় ছোট-খাটো ভুলে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। আর বাকি দলগুলোও প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছে, নিয়মিত এনালাইস করছে।’

‘তারপরও আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। আমাদের আশা ছিল ফাইনাল খেলব। কিন্তু মোনার্ক পদ্মার বিপক্ষে শেষ মূহুর্তে, ৪৮ সেকেন্ড আগে পেনাল্টি কর্ণার ছিটকে দিয়েছে আমাদের। অথচ সেদিন ম্যাচের ৭০ শতাংশ ছিল আমাদের দিকেই। ওদের সাথে এর আগের দুই ম্যাচেও ভালো খেলেছি আমরা। এখন কিছু করার নেই। কোনো এক কারণে ক্লিক করতে পারিনি আমরা। এখন মেনে নিতে হবে। আমাদের সেই ম্যাচ থেকে শিখার আছে অনেক কিছু। আশা করি ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারব।’

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here