কাইয়ুম আল রনি:: এনএসসি’র এক সিদ্ধান্তে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণে তোলপাড়। জাতীয ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে ফুটবলের জন্য বরাদ্ধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে ২২ বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। সিলেটের খেলাধুলার প্রাণ জেলা স্টেডিয়াম বাফুফেকে বরাদ্ধ দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গন। সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন এনএসসির এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করে আন্দোলনে নামার প্রস্তুুতি নিচ্ছে। শুধু ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন নয়, এনএসসির এমন সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছেন ক্রিকেট কোচরাও। তাদের দাবি জেলা স্টেডিয়াম ফুটবলকে দেওয়া হলে ধ্বংস হবে সিলেটের ক্রিকেট।
যুগ যুগ ধরে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট, ফুটবল, হকিসহ সব ইভেন্টই হয়ে আসছে। ক্রিকেটের মৌসুমে ক্রিকেট, ফুটবলের মৌসুমে ফুটবল। নগরের প্রাণকেন্দ্র রিকাবীবাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জেলা স্টেডিয়াম সিলেটের ক্রিকেটের প্রাণ। অলক কাপালি, রাজিন সালেহ, তাপস বৈশ্য, আবু জায়েদ রাহী, তানজীম হাসান সাকিব, সৈয়দ খালেদ আহমদ, জাকির হাসানদের মতো অসংখ্য তারকা ক্রিকেটার গড়ার মঞ্চ জেলা স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামকে ফুটবলের জন্য বরাদ্ধ দেওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়বে সিলেটের ক্রিকেটের। সিলেটের বিভিন্ন একাডেমির সহস্রাধিক ক্রিকেটার অনুশীলন করেন জেলা স্টেডিয়ামে। তরুণ ক্রিকেটাররা অনুশীলন করেন এই মাঠেই। এনএসসির এমন সিদ্ধান্তে ভবিষ্যতে আর ক্রিকেট খেলা যাবে না এই মাঠে। বাফুফের চাওয়া অনুযায়ী চুক্তিতে শর্ত থাকছে, এই ২২ বছর জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের উইকেটও করা যাবে না। ফিফার আর্থিক সহায়তায় মাঠের উন্নয়ন করবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তির পুরো সময়টা মাঠের রক্ষণা-বেক্ষণও করবে বাফুফে।
স্বাক্ষরতি হতে যাওয়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান ভাড়া পাবে এনএসসি। এই মাঠে হওয়া আন্তর্জাতিক লভ্যাংশ থেকেও একটা অংশ পাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। জেলা স্টেডিয়াম বাফুফের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান বলেন, ‘সিলেট স্টেডিয়াম বাফুফেকে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২২ বছরের জন্য দেওয়া হবে। চুক্তির খসড়া বাফুফেকে পাঠানো হয়েছে। বাফুফেও তাদের মতামত পাঠিয়েছে। তিনটি স্টেডিয়াম বাফুফেকে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে।’
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট হবে না জানিয়ে বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আমাদের যে তিনটি স্টেডিয়াম বরাদ্দের কথা জানিয়েছে, তার মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামে ক্রিকেট হয়। কিন্তু বাফুফেকে বরাদ্দের পর সেখানে পিচ করলে আমরা ফুটবল খেলব কীভাবে? তাই এনএসসি বলেছে ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলা আয়োজন করা যাবে।’
এনএসসির এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করে সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমতিয়াজ হোসে্ন চৌধুরী তান্না এসএনপিস্পোর্টস’কে বলেন, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম সার্বজনীন। এখানে সব ধরণের খেলা হয়। আমাদের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট, স্কুল ক্রিকেটসহ একাধিক টুর্নামেন্ট হয়। এই মাঠ শুধুই ফুটবলের হয়ে গেলে ক্রিকেটের কি হবে? বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো।
এনএসসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় দলের ক্রিকেটার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী বলেন, জেলা স্টেডিয়াম ফুটবলের হয়ে গেলে ক্রিকেট ধ্বংস হবে। ক্রিকেটাররা যাবে কোথায়? লিগ হবে কোথায়? আমাদের আরো দু’টি ক্রিকেট মাঠ আছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক, চাইলেই সেখানে স্থানীয় ক্রিকেট খেলা যাবে না।’
জাতীয় মহিলা দলের সাবেক প্রধান কোচ এ.কে.এম মাহমুদ ইমন এসএনপিস্পোর্টস’কে বলেন, আমাদের জেলা স্টেডিয়ামে সব ধরণের খেলাধুলা হয়। জাতীয় দলের অনেক তারকা উঠে এসেছেন এই মাঠ থেকে। আমি চাইবো এনএসসি এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুক। জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট বন্ধ হয়ে গেলে শুধু সিলেট নয়, জাতীয় দলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় খেলাধুলা সম্পূর্ণ করার জন্য সিলেট জেলা স্টেডিয়াম অপরিহার্য্য। বিশেষ করে প্রতি বছর স্থানীয় প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ, স্কুল ক্রিকেট ও বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজন হয়।
জানতে চাইলে বিসিবির জেলা কোচ মোঃ রানা মিয়া বলেন, আমাদের মাঠ সঙ্কট। মাঠের অভাবে এবছরের দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ এখনো শেষ হয়নি। জাতীয় স্কুল ক্রিকেট এখনো শুুরুই করতে পারেনি। জেলা স্টেডিয়াম ফুটবলের হয়ে গেলে আমাদের ক্রিকেটের কি হবে? ক্রিকেটাররা কোথায় অনুশীলন করবে? আন্তর্জাতিক দুই মাঠেতো স্থানীয় ক্রিকেটাররা যেতে পারবে না। স্থানীয় খেলাধুলার জন্যও ওই দুই মাঠ খুব একটা পাওয়া যায়নি। আমরা এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।































