নিজস্ব প্রতিবেদক:: পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পথে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ৪৩৭ রানের বোঝা নিয়ে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান প্রথম সেশনেই দুই উইকেট হারিয়েছে। দেড় দিনেরও বেশি বাকী আছে এখনো। পাকিস্তান পিছিয়ে ৩৩৬ রানে, হাতে আছে আট উইকেট। সফরকারীরা অলৌকিক কিছু না ঘটাতে পারলে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান চতুর্থ দিনের সকাল শুরু করে হতাশা দিয়ে। দলীয় ২৭ রানেই ফিরে যান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। নাহিদের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২৮ বলে ৬ রান করেন তিনি। আরেক ওপেনার আজান অ্যাওয়াইসও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২১ রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরেন তিনি। তার বিদায়ে ৪১ রানেই দুই উইকেট হারায় সফরকারীররা।
তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানের হলে লড়াই করছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। তাদের ৬০ রানের জুটিতে লাঞ্চ ব্রেকের আগ পর্যন্ত পাকিস্তান দুই উইকেটে ১০১ রান তুলেছে। শান মাসুদ ৪১ রানে ও বাবর আজম ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও মিরাজ ১টি করে উইকেট লাভ করেছেন।
বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়। জয়, লিটনের হাফ সেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিমের লড়াকু সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা টাইগার ওপেনার জয় হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ৬৪ বলে ৫২ রান করেছেন তিনি। আরেক ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফিরেন ৪ রানে। দিনের শেষ বেলায় ব্যক্তিগত ৩০ রানে মুমিনুল হক বিদায় নিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। সকালের প্রথম সেশনে অধিনায়ক শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রানে ফিরেছেন সাজঘরে। পাঁচ চারে ৯২ বলে ৬৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন লিটন দাস। ব্যাট হাতে পাকিস্তানকে শাসন করা মুশফিকুর রহিম খেলেন ১৩৭ রানের আলো ঝলমলে এক ইনিংস। ২৩৩ বল খেলে বারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে খুররুম শেহজাদ ৪টি ও সাজিদ ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান সকালের শুরুটা করে উইকেট হারিয়ে। বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান সকালের প্রথম সেশনেই হারিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। তাসকিন-মিরাজরা একে একে ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রথম তিন ব্যাটসম্যান আজান অ্যাওয়াইস, আব্দুল্লাহ ফজল ও অধিনায়ক শান মাসদুকে। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সকালে এক রান যোগ করতেই পাকিস্তান হারায় ওপেনার ফজলকে। তাসকিনের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২১ বলে ৯ রান করেছেন তিনি। বাংলাদেশের গতি তারকা দ্রুত তুলে নেন আরেক উইকেট। ২৩ রা্নেই দ্বিতীয় উইকেটে অপর ওপেনার আজানকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। দশম ওভারের শেষ বলে ৩৪ রানে ১৩ রানে সাজঘরে ফিরেন এই ওপেনার।
তৃতীয় উইকেটে বাবরকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক শান মাসুদ। তবে বেশিদুর যেতে পারেননি তারা। ইনিংসের ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজ ফিরিয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ককে। দলীয় ৬৩ রানে, ব্যক্তিগত ২১ রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরেন সফরকারী অধিনায়ক।
ব্যাট হাতে লড়াই করেন বাবর আজম। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই পাকিস্তান দুই শতকের ঘর পার করে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন তিনি ৮৪ বলে। দশ বাউন্ডারিতে সাজান নিজের ইনিংসটি। ২৮ বলে ৩৮ রান করেন সাজিদ খান। টাইগার বোলারদের তোপে পড়ে ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ও নাহিদ রানা ৩টি করে, মিরাজ ও তাসকিন ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০































