নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে ইয়ামিনের উইকেট তুলে নেন তাসকিন। মাত্র ১ উইকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলক আর দলের জয়ের অপেক্ষায় তখন বাংলাদেশ। আর সেই জয় পেতে একই ওভারের তৃতীয় বলে শেষ ব্যাটার জহির খানকে পাশ কাটিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাসের হাতে বল গেলে, তাসকিন-লিটনের জোরালো আবেদনে উইকেট আর জয় উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ।
কিন্তু, আফগান ব্যাটার রিভিউ নিলে, দেখা যায় ব্যাটের কানায় লাগেনি বল। যার ফলে আশাহত হয়ে আবারও খেলায় ফিরতে হয়। ঠিক পরের বলই খেলতে গিয়ে জহিরের শরীরে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে তাসকিনের ফুলটস বল। এতে ফের উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ ও তাসকিন। তবে এবার তৃতীয় আম্পায়ার হাই নো বল ধরেন। যার ফলে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ তৈরি হয়।
তবে এই ওভারেই খেলা শেষ হয়। তাসকিনের করা ওভারের শেষ বলে হাতে আঘাত পান জহির খান। এতে রিটায়ার্ড হার্ট হলে ম্যাচ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। কেননা আর কোনো ব্যাটার বাকি ছিল না তখন আফগানদের। শেষ মূহুর্তে এমন নাটকীয়তার পর ৩৩ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৫ রানে থামে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস। চতুর্থ দিন মাত্র এক সেশন খেলতে পারে দলটি।
ম্যাচের আরও পাঁচ সেশন বাকি থাকতেই ইতিহাস গড়া এক জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। ৫৪৬ রানের বিশাল জয় টাইগারদের। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এটি বাংলাদেশের। এছাড়া বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় বড় জয় এটি। তবে এবারই প্রথম পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের হিসেবে কোনো দল ৫০০ বা এর বেশি রানে জিতল। যা কিনা নতুন বিশ্বরেকর্ড। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সে আফগানদের বিপক্ষে ২০১৯ সালে টেস্ট হারের তিক্ততারও প্রতিশোধ নিল টাইগাররা।
আগের দিন বাংলাদেশের দেওয়া ৬৬২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষ করেছিল ১১ ওভারে ২ উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে। সেখান থেকেই আজ আবার শুরু করেছিল দলটি। তবে নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
ঢাকা টেস্টে সকালের সেশনে একেবারে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। চতুর্থ দিনের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেনদের পেস দাপট। এতেই কুপোকাত হয়ে উইকেটের পর উইকেট হারিয়ে বসে আছে আফগানরা। কোনোমতে দলীয় রান একশ পার করে দলটি।
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দিনের খেলার শুরুতেই ৬ রান করা নাসির জামালকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। এরপর একে একে আফসর জাজাই, বহির শাহ, রহমত শাহ, করিম জানাতকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান শরিফুল ও তাসকিন।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ রান করা রহমত শাহ উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। খানিকটা আগ্রাসী হতে যাওয়া করিম জানাতকে ১৮ রানের বেশি করতে দেননি তাসকিন। বোল্ডআউট করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান তিনি। আফগানদের দলীয় ৯১ ও ৯৮ রানে দলের দুই তারকাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে একেবারে হাতের মুটোয় ম্যাচ এনে দেন তাসকিন।
এই দুই উইকেটের আগে বহির শাহ’র টেস্ট অভিষেক হয়। মূলত তিনি আফগানিস্তান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদীর পরিবর্তে দ্বিতীয় ইনিংসে একাদশে সুযোগ পান। হাশমতউল্লাহ আগের দিন ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে তাসকিনের করা তৃতীয় বলে বাউন্সে মাথায় আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। আফগান অধিনায়ক আর খেলার মতো অবস্থায় না থাকায় বহিরকে নামানো হয়। তবে সুযোগ পেয়ে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। শরিফুলের বলে স্লিপে তাইজুলের দারুণ এক ক্যাচে আউট হন।
এর আগে আফসর জাজাইও ব্যর্থ হন। শরিফুলের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৬ রান করেন মাত্র। শেষ দিকে আমির হামজা, ইয়ামিনরা প্রতিরোধ গড়তে পারেননি খুব একটা। যার ফলে শেষ পর্যন্ত ৫৪৬ রানের বিশাল হারের তিক্ততা পেতে হয় অনভিজ্ঞ দলটিকে।
বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ৩৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন পেসার তাসকিন আহমেদ। যা কিনা টেস্টে এক ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এদিন ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তাসকিন। এদিকে ২৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। ১টি করে উইকেট লাভ করেন এবাদত ও মিরাজ।
এর আগে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮৬ ওভারে ৩৮২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। ১৪৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭৬ রান আসে মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৬ রানে গুঁটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন আফসর জাজাই। টাইগারদের হয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন এবাদত।
এরপর ম্যাচের তৃতীয় ও বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের হয়ে শান্ত ১২৪, মুমিনুল হক ১২১, জাকির হাসান ৭১ ও লিটন দাস ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। এতেই ৬৬২ রানের ইতিহাস গড়া লক্ষ্য আফগানদের ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ দল।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা































Discussion about this post