স্পোর্টস ডেস্কঃ ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ২১ রানে হারিয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছে টাইগাররা। ম্যাচে দলগত নৈপুণ্য দেখা গেছে বাংলাদেশের। তবে সব ছাপিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকানো মাহমূদুল হাসান জয় হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট ও রান রেটে এগিয়ে থেকে সেমিতে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সুযোগ এখনও আছে। তবে এর জন্য শ্রীলঙ্কা ও ওমানের ম্যাচের ফলাফলের ওপর তাকিয়ে থাকতে হবে।
কলম্বোর পি সারা ওভালে শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৩৪ রানের মধ্যে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার তানজিম তামিম (৯), নাঈম শেখ (১৮) ও অধিনায়ক সাইফ হাসানকে (৪) হারায় টাইগাররা। এরপর দলের হাল ধরেন জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়।
এই দুজনে মিলে ১১৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। দলীয় রান দেড়শ পার হতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জাকির। তবে এর আগে ৬২ রানের বেশ কার্যকরী ইনিংস খেলে যান তিনি। এই বাঁহাতি আসরে নিজের প্রথম ফিফটি হাঁকানো ইনিংসটি সাজান ৭২ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কার মারে।
এরপর উইকেটে এসে জয়ের সাথে জুটি বাঁধেন সৌম্য সরকার। দুজনে বেশ ভালোভাবেই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ইনিংস। তবে দলের রান দ্রুত বাড়াতে গিয়ে ৪১তম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে খেলে যান ৪২ বলে ৩টি করে চার ও ছয়ের মারে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্যের স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৪’র বেশি। জয়ের সাথে ভেঙে যায় ৭৯ রানের জুটি।
সৌম্যের বিদায়ের পর সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে গিয়ে জয় খানিকটা ধীর-স্থির হয়ে খেলছিলেন। এতে করে রানের চাকাও ধীর গতির হয়ে পড়ে। উইকেটে আসা আকবর আলিও কিছু করতে পারেননি। মাত্র ৪ রান করে বিদায় নিয়েছেন। এরপর শেখ মেহেদী নেমে ঝড় তুলেন। অপরপ্রান্তে দারুণ এক ছক্কায় সেঞ্চুরি পূরণ করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জয়। ইনিংসের শেষ দিকে এসে আউট হওয়া জয় ১১৪ বলে ১২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কার মারে খেলেন ১০০ রানের ইনিংস।
শেষের দিকে শেখ মেহেদী ও রাকিবুল হাসানের অবিচ্ছিন্ন ২২ বলে ৪১ রানের ঝড়ো জুটিতে ভর করে দলীয় রান তিনশ পার করে বাংলাদেশ। ১৯ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। ১২ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রাকিবুল।
আফগানদের হয়ে একাই ৪ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সেলিম।
৩০৯ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৬ রানে নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর ৯০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দেন রিয়াজ হাসান ও নূর আলি জাদরান। নূরকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব। তবে এরপরও আরও দুই-একটি জুটি বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলে। যার মধ্যে অন্যতম শহিদুল্লাহ ও বহির শাহ’র ৭০ রানের জুটি।
জয়ের আশা জাগলেও, শেষ পর্যন্ত আর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৭ রানে থামে দলটি। মাঝের ওভারগুলোতে টাইগার বোলারদের চাপের কারণে ধীর গতির ব্যাটিং দলটির হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আফগানদের হয়ে ১০৫ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার রিয়াজ হাসান। ৫০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন বহির শাহ। ৪৪ রান করে আসে নূর ও শহিদুল্লাহ’র ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের হয়ে তানজিম হাসান সাকিব এদিন ৩টি উইকেট শিকার করেন। ২টি করে উইকেট লাভ করেন সৌম্য সরকার ও রাকিবুল হাসান। উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে ২ মেইডেনসহ মাত্র ৩৩ রান খরচ করেছেন শেখ মেহেদী। তবে ১০ ওভারে ৯৩ রান খরচ করেছেন রিপন মণ্ডল। পেয়েছেন মাত্র ১ উইকেট।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা
Discussion about this post