স্পোর্টস ডেস্ক:: ক্রিকেটারদের অনুশীলন, নিরাপত্তা এবং আবাসন সমস্যা কাটাতে সিলেটসহ দেশের আটটি শহরে ডরমিটরি তৈরির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এসব এলাকার স্টেডিয়ামে বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটাররা যাতে আবাসিক থেকে নিরবিঘ্নে সারা বছর অনুশীলনের সুবিধা পান সেই চেষ্টা করছে বোর্ড।
বিসিবির লক্ষ্য প্রতিটি ভেন্যুতেই উন্নত প্র্যাকটিস উইকেট তৈরি করা, যাতে খেলোয়াড়রা নিয়মিত ও মানসম্মত অনুশীলনের সুযোগ পান। পাশাপাশি বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুশীলন চালিয়ে যেতে ইনডোর ট্রেনিং সুবিধাও যুক্ত করা হবে। এছাড়া খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পুনর্বাসনের জন্য আধুনিক জিম এবং রিহ্যাব সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের এক পাশে ডরমিটরি সুবিধা রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
একটি সূত্রকে বিসিবির কর্মকর্তারা জানান, আগে থেকেই মিরপুরে ইতোমধ্যেই একাডেমি সুবিধা রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল ও কক্সবাজারে বিসিবির একাডেমি বা ডরমিটরির কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ এই ভেন্যুতে সারা বছরই ক্রিকেটের নানা প্রোগ্রাম হয়ে থাকে। বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে জাতীয় লিগের ম্যাচ হয় এসব স্টেডিয়ামে।
এই শহরগুলোতে ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বিসিবিকে হোটেল ভাড়া বাবদ প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়। বিসিবি তাই এসব জায়গায় ৬০–৭০ জন ধারণক্ষমতার ডরমিটরি নির্মাণের চিন্তা করছে বোর্ড। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, তবে এতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় কমবে।
তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের কাজগুলো শুরু করবেন। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের আউটার ফ্যাসিলিটিকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটিকে আরও কার্যকর ও বহুমুখী প্র্যাকটিস ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সাগরিকা স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল পানি। সেই সমস্যা এখন কেটে যাচ্ছে। বসানো হচ্ছে ডিপ টিউবওয়েল। পানির সংকট কেটে যাওয়ায় চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামকে নিয়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস চট্টগ্রামের আউটার ফ্যাসিলিটি ঘিরে নেওয়া পরিকল্পনার কথা জানালেন, “ডরমিটরি থাকলে ছোট খেলোয়াড়রা নিরাপদ বোধ করবে, তাদের অভিভাবকরাও নিশ্চিন্ত থাকবেন। এতে একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শিক্ষামূলক কার্যক্রম—যেমন আচরণবিধি, কম্পিউটার বা ইংরেজি শেখানো—সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় দলে উঠতে খেলোয়াড়দের সহায়তা করবে।”
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০































