নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিপিএলে আরেকবার হারল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে আজ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বিপিএলের নবাগত দলটি। বুধবার সিলেটে আগে ব্যাট করে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারে নি নোয়াখালী। রান তাড়ায় ঢাকাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন নাসির হোসেন। রেকর্ডগড়া ফিফটি হাঁকানোর পর দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নাসির।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা ক্যাপিটালস। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও মোহাম্মদ নবী ও হায়দার আলীর দৃঢ়তায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করেছে নোয়াখালী। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের উইকেট হারিয়ে ফেলে ঢাকা ক্যাপিটালস। দলের ১৪ রানের মাথাতে বিদায় নেন গুরবাজ এবং মামুন। ৬ বলে ১ রান করেছেন মামুন। অন্যদিকে ২ বল মোকাবেলা করে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন গুরবাজ।
এরপর তিনে নেমে তাণ্ডব চালিয়েছেন নাসির হোসেন। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তুলেছেন নাসির। ফিফটি পর্যন্ত গিয়েছেন একদম সুপারসনিক প্লেনে চেপে। মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে ফেলেন নাসির। এবারের আসরের দ্রুততম ফিফটি এল নাসিরের ব্যাট থেকেই। এর আগে ২৩ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে এই রেকর্ড দখলে রেখেছিলেন কাইল মেয়ার্স। ফিফটির পর কিছুটা কমেছে নাসিরের রানের গতি। তবে থামেনি একদমই। চারে নামা ইরফান শুক্কুর ১১ বলে ১২ রান করেছেন। পাঁচে নেমে নাসিরের সাথে যোগ দেন ইমাদ ওয়াসিম। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন ইমাদও। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটেছেন নাসির।
শেষ পর্যন্ত নাসির-ইমাদের ব্যাটে চড়েই জয়ের বন্দরে চলে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ৫০ বলে ৯০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন নাসির। ১৬ বলে ২৯ রান করে টিকে ছিলেন ইমাদ। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ২ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ১ উইকেট তুলেছেন জহির খান। এবারের আসরে ২য় জয় তুলে নিল ঢাকা ক্যাপিটালস। অন্যদিকে ৫ ম্যাচ খেলে ৫টিতেই হেরেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
এর আগে ইনিংসের শুরু থেকেই ঢাকার বোলারদের তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে নোয়াখালীর টপ অর্ডার। দলীয় মাত্র ১১ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সৌম্য সরকার। তিন নম্বরে নামা মাজ সাদাকাত কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়ে ১৯ বলে ২৪ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এরপর মুনিম শাহরিয়ার (২) ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৪) দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৪০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে দলটি। বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী এবং অধিনায়ক হায়দার আলী। শুরুতে তারা উইকেটে থিতু হওয়ার দিকে মনোযোগ দেন এবং পরবর্তীতে রানের গতি বাড়ান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন। শেষ ৫ ওভারে এই জুটি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৫০ রান যোগ করেন। হায়দার আলী ৩৬ বলে ৪৭ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে শেষ ওভারে আউট হলেও, মোহাম্মদ নবী ৩৩ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই মূলত লড়াই করার মতো পুঁজি পায় নোয়াখালী। ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলাররা ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। দলের হয়ে ইমাদ ওয়াসিম, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, জিয়াউর রহমান, নাসির হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০/১১০
































