স্পোর্টস ডেস্ক:: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হবে না লিওনেল মেসির। তবে এক জীবনে আকাশী নীল জার্সিতে যে কীর্তি গড়ে গেছেন মেসি, সেটা টপকে যাওয়া কারোর পক্ষে সহজ হবে না। ২১ বছরের ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির কোনো অপ্রাপ্য নেই। সব প্রাপ্তির হিসাব মিলিয়েই বিশ্ব ফুটবলের এই মহা নায়ক বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলকে।
৩৯ বছর বয়সী মেসি আকাশী নীল জার্সিকে যে ভাবে রাঙিয়েছেন, আর কোনো ফুটবলারের পক্ষে হয়তো এমন সম্ভব হবে না। সব শিরোপা জিতেছেন, ফুটবলের প্রেমে জড়িয়েছেন কোটি ভক্তকে। শৈল্পিক ফুটবলে ভক্তদের বিমোহিত করেছেন, কাঁদিয়েছেন, আনন্দও দিয়েছেন।
২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পরিসংখ্যান মাঠের জাদুকরী মেসিকে বুঝার উপায় নেই। বিশ্বকাপ, ফাইনালিসিমা থেকে শুরু করে যুব বিশ্বকাপ সবই আছে মেসির ঝুলিতে। জাদুকরের জাদুতে সাড়ে তিন দশকের অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
মেসির যত অর্জন; বিশ্বকাপ জয়। লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিলো বিশ্বকাপ জিততে না পারা। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ মিটেছে। লিওনেল মেসি স্বপ্নের বিশ্বকাপ জিতেছেন। একই ঙস্গে জেতেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলও।
ছয় বিশ্বকাপে মেসির গোল ২১টি। । বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট ১২টি, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ তিনি বিশ্বকাপে মোট ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি। মেসির অর্জনের ঝুলিতে আছে দু’টি কোপা আমেরিকাও। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে শিরোপাহীনতা কাটে তার। এরপর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৯ ম্যাচ খেলা ফুটবলারও এই জাদুকর। সাতটি আসরে অংশ নিয়ে করেছেন ১৪ গোল।
ফাইনালিসিমা জয়ও আছে মেসির। ২০২২ সালে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে ফাইনালিসিমা জয়েও আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দেন মেসি। ওয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। অলিম্পিক স্বর্ণ ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপও ধন্য হয়েছে মেসির ছোঁয়ায়। মূল জাতীয় দলের বাইরে বয়সভিত্তিক পর্যায়েও আর্জেন্টিনার হয়ে সাফল্যের সাক্ষী মেসি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনাকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতান তিনি। একই আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জয় করেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন মেসি। ফলে যুব পর্যায় থেকেই দেশের জার্সিতে তার সাফল্যের শুরু হয় তার।
আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যান- ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল। তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার এক নজরে
ম্যাচ: ২০৭
গোল: ১২৫
বিশ্বকাপ: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
কোপা আমেরিকা: ২০২১ ও ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন
ফাইনালিসিমা: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
অলিম্পিক: ২০০৮ স্বর্ণ
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: ২০০৫ চ্যাম্পিয়ন
বিশ্বকাপ গোল: ২১
বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট: ১২
বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল: ২০১৪ ও ২০২২
বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ৬টি
আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১২৫
আর্জেন্টিনার সর্বাধিক ম্যাচ: ২০৭
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: ৬৮টি।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০































