নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হার দিয়ে বিপিএলের দ্বাদশ আসর শুরু করা সিলেট টাইটান্স ফিরল আজ জয়ে। শনিবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ১ উইকেটে জিতেছে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে নোয়াখালীকে ১৪৩ রানে আটকে রেখে রান তাড়ায় শেষের রোমাঞ্চে ১ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় সিলেট। বল হাতে দলটিকে দারুণ শুরু এনে দেন মোহাম্মদ আমির ও খালেদ আহমেদ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনের ফিফটিতে বড় জয় পায় সিলেট টাইটান্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারে নি বিপিএলের নবাগত দল নোয়াখালী। দলটির দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও হাবিবুর রহমান সোহান রানের খাতাই খোলতে পারেন নি। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় নোয়াখালী। আমিরের আউট সুইং বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মাজ সাদাকাত। ডাক খেয়েছেন আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানও। ২ বল খেলে খালেদের বলে আউট হয়েছেন তিনি। দুই ওপেনার ডাক খেয়ে সাজঘরে যাওয়ার পর দলের বিপদ আরো বাড়িয়েছেন তিনে নামা হায়দার আলি। এই পাকিস্তানি ব্যাটারও রানের খাতা খুলতে পারেননি। অর্থাৎ প্রথম তিন ব্যাটারের সবাই ডাক খেয়েছেন। ফলে ৯ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা।
দলের এমন বিপদে হাল ধরেন সৈকত আলি ও সাব্বির হোসেন। ২৯ বলে ২৪ রান করেন সৈকত। আর ১৫ বলে ১৫ রান এসেছে সাব্বিরের ব্যাট থেকে। এরপর জাকের আলি ও অঙ্কন মিলে দারুণ জুটি গড়েন। ২৯ রান করে জাকের ফিরলে ভাঙে ৬৬ রানের সপ্তম উইকেট জুটি। জাকের থিতু হয়ে ফিরলেও ফিফটি পেয়েছেন অঙ্কন। ৪৬ বলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে সিলেট টাইটান্স। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেছেন সিলেটের ওপেনার সাইম আইয়ুব। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন তিনি। ২ বলে ০ রান করেন সাইম। আরেক ওপেনার রনি তালুকদার ২ চারে ৭ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে সিলেট। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন পারভেজ হোসেন ইমন এবং জাকির হাসান। তিনে নামা জাকির বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১২ বলে ১৩ রান করে দলের ৩৪ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। এরপর ইমনের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক মিরাজ।
ফিফটি হাঁকানো ইমন ৪১ বলে ৬০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে বিদায় নেন। ক্রিজে আফিফ হোসেন ধ্রুব এসে বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ৬ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন আফিফ। ১৮তম ওভারে এসে যেন খেলা ঘুরিয়ে দেন নোয়াখালীর মেহেদী হাসান রানা। ওভারের শেষ ৩ বলে মিরাজ, নাসুম আহমেদ এবং খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে তুলে নেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। শেষ ওভারে সিলেটের দরকার হয় ১৩ রান। বোলিংয়ে আসেন সাব্বির হোসেন, প্রথম ২ বল ডট পেয়ে যান তিনি সিলেটের ইংলিশ ব্যাটার ইথান ব্রুকসের বিপক্ষে। পরের বল ‘নো’ হয়। ফ্রি হিটে ৬ হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ব্রুকস। যদিও ম্যাচ শেষ করতে পারেন নি তিনি। বাই থেকে রান নিতে গিয়ে অর্ধেক ক্রিজে এসে পরে আর ফিরতে পারেননি। শেষ বলে ১ রান নিয়ে সিলেট পেয়ে যায় দারুণ অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর, উত্তেজনায় ঠাসা এক জয়।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডকম/নিপ্র/০০/১১০
































