স্পোর্টস ডেস্ক:: দিন বদলেছে, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা চোখে চোখ রেখে লড়াই করছেন স্টিভেন স্মিথদের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করার ‘রেকর্ড’ করলেন তানজীদ হাসান তামিম।
বাংলাদেশের এই তরুণ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, মিচেল স্টার্কদের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করেছেন। অজিদের ‘অবহেলা’র সমুচিত জবাবও দিলেন। এই অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘ দুই দশক থেকে যে আমন্ত্রণ জানায়নি বাংলাদেশকে।
এবার তাদের মাটিতে সুযোগ পেয়েই বাংলার ক্রিকেটাররা দেখালেন নিজেদের শক্তি সামর্থ্য। বুঝিয়ে দিলেন আগের দিন আর নেই। অজিদের মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়ে হাসান মাহমুদ, তাসকিনরা নিজেদের কাজটা করেছেন ঠিকঠাকমতো। এবার ব্যাটসম্যানরাও করছেন নিজেদের কাজ। তামিমের সেঞ্চুরিতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দল মাত্র তিন উইকেটে ২৬০ রান করেছে ৭৩ ওভারে। লিড দাঁড়িয়েছে ৬০ রানের। ৬৭ রানে শান্ত ও ১২ রানে মুশফিক অপরাজিত আছেন।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে তানজীদ তামিম ১৯৭ বল খেলেছেন। মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্সদের শাসন করেছেন। দুর্দান্ত সব শট খেলেছেন। দেখিয়েছেন দারুণ টেম্পারম্যান্ট। ১০১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ৮ বাউন্ডারির সঙ্গে হাঁকিয়েছেন একটি ছক্কাও।
অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ৯৬ রানে। তানজীদ হাসান তামিম ৩২ রানে ও মুমিনুল হক ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। প্রতিপক্ষকে অল্পতে আউট করে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ইনিংসের নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৩৬ রানে। ওপেনার সাদমান ৩০ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন।
দ্বিতীয় দিন আজ সকালে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল হক ইনিংস বড় করতে পারেননি। ইনিংসের ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৩৮ রানে তার বিদায়ে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেট জু্টি। বিদায়ের আগে তামিমকে নিয়ে গড়েন ১০২ রানের জুটি। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দুরে থাকতে ৪৯ রানে প্যাভেলিয়নে ফেরেন মুমিনুল। ৯৬ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি হাঁকান ৮টি। চারে নামা শান্ত তামিমকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। তানজীদ তামিম দারুণ টেম্পারম্যান্ট দেখিয়ে অজি বোলারদের শাসন করে আদায় করেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আট চার ও এক ছক্কায় ১৯৭ বল খেলে ১০১ রানে যখন প্যাভেলিয়নে ফিরেন তামিম, বাংলাদেশ তখন অজিদের ১৯৮ রান টপকে লিড নিয়েছে। ইনিংসের ৬৬তম ওভারের তৃতীয় বলে ২৩১ রানে তার বিদায়ে ভাঙে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেট জুটিটি।
অজিদের হয়ে স্টার্ক, হ্যাজেলউড ও নাথান লিয়ন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশের প্রেস আক্রমণে ছন্নছাড়া হয় অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী স্বাগতিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ‘রেকর্ড’ করলেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমদু, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমদ। তিন পেসারের আগুনে পুড়ে ছাই অজি ব্যাটিং লাইনআপ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে তিন পেসার ১০ উইকেট তুলে নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৯৮ রানে।
বাংলাদেশের পেসাররা দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের সব উইকেট তুলে নিয়েছেন। স্পিন নির্ভর বাংলাদেশ দিনে দিনে পেসে উন্নতি করছে। পেসাররা আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিপক্ষের সব উইকেট পেসাররা তুলে নেওয়ার দ্বিতীয় রেকর্ড এটি বাংলাদেশের পেসারদের জন্য।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পেসাররা ১০ উইকেট শিকার করেছিলেন। সেটিই ছিলো পেসারদের সব উইকেট নেওয়ার প্রথম রেকর্ড। এবার ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও পেসাররা দারুণ করলেন। এবাদত, হাসান মাহমুদদের গতির ঝড়ে উড়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা।
ইনিংসের ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। জেক ওয়েরদারল্যান্ডকে দলীয় ৪৫ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। ৩৭ বলে ২৩ রান করে ছিলেন তিনি। এরপরই সাজঘরে ফিরেন আরেক ওপেনার টার্ভিস হেড। দলীয় ৫২ রানে, ব্যক্তিগত ২২ রানে প্যাভেলিয়নে ফেরেন তিনি।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর লাবুশানেও ফিরেন সাজঘরে। ইনিংসের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৬১ রানে তাকে ফেরান এবাদত হোসেন। ২০ বলে মাত্র এক রান করেন তিনি। ২২তম ওভারের শেষ বলে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে প্রথম সেশন শেষ করে স্বাগতিকরা। এবার ফিরেন ক্যামেরন গ্রিন। দলীয় ৭৪ রানে ব্যক্তিগত ১৩ বলে ১৩ রানে কাটা পরেন তিনি।
দ্বিতীয় সেশনে পঞ্চম উইকেটে স্টিভেন স্মিথ অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে ৫৫ রানের জুটি গড়েন। এবার এবাদত ভাঙেন প্রতিরোধ গড়া জুটিটি। ইনিংসের ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১২৯ রানে ক্যারিকে ফেরান তিনি। সাজঘরে যাওয়ার আগে ৪৩ বলে দুই বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটের পর ষষ্ট উইকেটও দ্রুত হারায় স্বাগতিকরা। তাসকিনের শিকারে বিওয়েবস্টার ফিরেন প্যাভেলিয়নে। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ১৫২ রানে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ১০ বলে ১২ রান করেন।
হাসান মাহমুদ ইনিংসের ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন। দলীয় ১৭২ রানে সপ্তম উইকেটে ফেরার আগে স্বাগতিক দলনেতা ১৯ বলে করেন মাত্র ৯ রান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে হাসানের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন মিচেল স্টার্ক। ইনিংসের ৪৭তম ওভারের শেষ বলে তার বিদায়ে ১৭৬ রানেই অষ্টম উইকেট হারায় কামিন্সের দল। ১১ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন স্টার্ক।
এরপর ব্যাট হাতে একা লড়াই করা স্টিভেন স্মিথকে থামান হাসান মাহমুদ। ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফেরার আগে ১০৯ বলে ৭১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন শুরুতে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান। ১৮৯ রানে স্মিথের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় ১৯৮ রানে নাথান লিয়নের বিদায়ের পর। ১৩ বলে ৭ রান করেন অজিদের শেষ ব্যাটার।
ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে একটাই জল্পনা-কল্পনা পাঁচ দিনের টেস্ট কত দিনে শেষ হবে? দুই দিন নাকি তিন দিন? বাংলাদেশ কত সময় ব্যাটিং করতে পারবে? অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাটিং করলে কখন ইনিংস ঘোষণা করবে? অজিদের সেই দাম্বিকতায় চরম চপেটাঘাত করলেন বাংলাদেশের বোলাররা।
প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই বিপর্যয়ে অস্ট্রেলিয়া। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়েন স্টিভেন স্মিথরা। একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছেন টাইগার পেসাররা। মারারা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় গতি, বাউন্সের মিশেলে তাসকিন, এবাদত আর হাসান মাহমুদ রীতিমতো ছেলে খেলা করছেন স্বাগতিকদের নিয়ে। একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছেন। দুর্দান্ত বোলিং করেন।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ একাই ৬টি, তানকিন ও এবাদত ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০































